জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছে ইন্ডিয়া জোট

ফন্ট সাইজ:

ভারতের ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে নির্বাচন সদন অভিযান সাড়ে আট ঘণ্টা ধরনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। পুলিশ জোর করে সাংসদদের সরিয়ে নিয়ে যায়। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ শতাধিক সাংসদকে দু’ঘন্টা আটক করার পর রাতেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। রাজপথে আন্দোলনের পর এবার বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের বেআইনি কার্যকলাপ’-এর খতিয়ান পেশের উদ্দেশ্যে ভারতের রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছেন। আগামী ৭ থেকে ৯ই অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে আর্জি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবরা। সূত্রের খবর, বিজেপি-বিরোধী সব ক’টি দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল বলেছেন, “আমরা অটল। অবিচল। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এক চুলও নড়বো না। ‘ভোটচোরদের’ হাত থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা না করা পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হবো না।” জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বুধবার দিল্লিসহ দেশের পাঁচটি শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে ইন্ডিয়া জোট।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সংবাদমাধ্যমে আমরা খবর পাই বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাননি। এরপর দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, বিরোধী দলনেতা ২৪০ জন সাংসদ নিয়ে সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান।” কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের দাবি অস্বাভাবিক, তাই মানা সম্ভব নয়। জ্ঞনেশ কুমারদের বক্তব্য, “নিয়ম অনুযায়ী কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে হলে একমাত্র নির্বাচন সদনেই তর করতে হয়, বাইরে নয়। তাই এই অস্বাভাবিক দাবি মানা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া ২০২৫ সালেই সব রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে কোনো দলের প্রতিনিধিদল বা যৌথ প্রতিনিধিদল যদি কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চায়, তাহলে সেই মতো আগে থেকে জানাতে হয়। তারপর দু’পক্ষের সুবিধামতো সময়ে বৈঠক হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটাও মানা হয়নি। তাই এই দাবি মানা অসম্ভব ছিল।