রেলের গতি বাড়ানো এবং রেলসেবাকে আরও জনকল্যাণমুখী করতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটি লোকোমোটিভের দাম পড়বে ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০টি লোকোমোটিভ কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে লোকোমোটিভগুলো কেনা হবে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে লোকোমোটিভগুলো হাতে পাওয়ার লক্ষ্য। বুধবার ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, দেশের রেলওয়েতে বর্তমানে ব্যবহৃত ১১৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ায় নতুন করে ৩০টি লোকোমোটিভ কিনবে রেলওয়ে। এজন্য নতুন একটি প্রকল্প অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। তবে বিদেশি ঋণনির্ভর প্রকল্পটিতে আগ্রহ না থাকায় তা ফেরত পাঠানো। বর্তমান সরকার রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করার কথা থাকলেও সে উদ্যোগ পিছিয়ে যাওয়ায় ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ কিনতে হচ্ছে। যেগুলো আগামী কয়েক দশক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব লোকোমোটিভ কিনতে প্রস্তাবিত ব্যয় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বরাদ্দের ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা ঋণ থেকে আসবে, যা মোট বরাদ্দের ৭১ শতাংশ। বাকি ৮১১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১৮ জেলার রেলওয়েতে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মোট ২৯৬টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ ১৬৮টি ও ব্রডগেজ ১২৮টি। দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে রেলওয়ের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতায় সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে লোকোমোটিভ সংকটের প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন লোকোমোটিভ যুক্ত করে বহরের সক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
৩০টি মিটারগেজ রেলইঞ্জিন কিনছে সরকার, ব্যয় অনুমোদন
স্টাফ রিপোর্টার
৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
