কুষ্টিয়ায় ‘অস্ত্র গুঁজে দিয়ে’ দুই যুবককে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ায় দু’টি পিস্তল, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ১৬ রাউন্ড শটগানের গুলিসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তাদের পরিবার। তাদের দাবি, আটকের সময় দুই যুবকের কারও কাছেই অস্ত্র ছিল না। পরে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সাজানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বংশীতলা এলাকার জসীম ব্রিকসের সামনে অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৮) ও মো. আব্দুল্লাহকে (২৮) গ্রেপ্তারের কথা জানায় ডিবি পুলিশ। আরিফ কুমারখালীর শালঘর মধুয়া গ্রামের হাসেন আলী গোপালের ছেলে এবং আব্দুল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার দুর্বাচারা গ্রামের রাহাদ আলীর ছেলে। তবে বুধবার সাংবাদিকদের দেয়া লিখিত বক্তব্যে দুই পরিবারের দাবি, পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে আটকের স্থান ও পরিস্থিতির মিল নেই। তাদের ভাষ্য, আরিফুলকে বংশীতলা মোড় থেকে এবং আব্দুল্লাহকে দুর্বাচারা বাজার থেকে আটক করা হয়। আটকের সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।

পরিবারের দাবি, আব্দুল্লাহকে জনসম্মুখে আটকের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে। সেই ফুটেজে আটকের সময় আব্দুল্লাহর কাছে অস্ত্র ছিল কি না, তা যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছে পরিবার। আব্দুল্লাহর স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা নেই। স্থানীয় জাহাঙ্গীর কবির লিল্টন ও মামুন ওরফে টাইগার মামুনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরেই তাদের ইন্ধনে আব্দুল্লাহকে ধরে নিয়ে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার। পরিবারের লিখিত বক্তব্যে লিল্টন ও মামুনের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও করা হয়েছে।

দুই পরিবারের বক্তব্যে মূল প্রশ্ন উঠেছে, অস্ত্রগুলো কোথা থেকে উদ্ধার হলো এবং উদ্ধারের সময়কার প্রত্যক্ষদর্শী বা ভিডিও প্রমাণ কী বলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আটকের ভিডিও, পুলিশের অভিযান এবং অস্ত্র উদ্ধারের স্থান ও সময়ের তথ্য মিলিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ৫ই আগস্টের পরও কোনো পক্ষ প্রশাসনকে প্রভাবিত করে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিবি কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তারা।