ইলিশের আকাল

লোকসানের ধকল নিয়েই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় হাজার হাজার জেলে

ফন্ট সাইজ:

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জাল গোছাচ্ছিলেন জেলে জয়নাল খলিফা ও আব্বাস মুসল্লী। জানালেন, সাগরের অগভীর এলাকায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে ইলিশ ধরে আসছেন। ৬৫ দিনের অবরোধের পরে ১৫-১৬ ট্রিপ সাগরে গেছেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত ইলিশের দেখা মেলেনি। প্রতিবারই ৪-৫টা থেকে সর্বোচ্চ ৩০টার বেশি ইলিশ কখনো মেলেনি। এই ১৬ বারে এক কেজি ওজনের মাত্র দুইটা ইলিশ পেয়েছেন। আর বাকি সব জাটকা। ৫-৬ থেকে ৮-৯টায় কেজি। গত দুই বছর ধরে ইলিশের এমন আকাল চলছে বলেও জানানÑ এই দুই জেলে। তাদের ছোট্ট বোটে অন্তত আড়াই লাখ টাকার লোকসান রয়েছে বলে দাবি তাদের। এখন কীভাবে বেতনের টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না জয়নাল খলিফা। কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুর বন থেকে গঙ্গামতি ও কাউয়ারচর পর্যন্ত অন্তত আড়াই হাজার খুঁটা জেলের সকলেরই দশা এক।

যেন মানুষগুলো দিশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গঙ্গামতি সৈকতের বেলাভূমে এখন ডাবসহ বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করছেন আলম মোল্লা (৫৫)। জানালেন জীবনের ৪০টি বছর জেলের কাজ করেছেন। জাল, ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সব ছিল। সাগর মোহনা ও রাবনাবাদ চ্যানেলে ইলিশ ধরতেন। ইলিশের খরায় আট লাখ টাকার দেনা মাথায় নিয়ে এখন বিচে ডাব বিক্রি করছেন। ছয়জনের সংসারে এখন তার দুরবস্থা চলছে। বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। সকলের জীবিকার যোগান দেয়া একমাত্র ব্যক্তি আলম মোল্লা জানালেন, সাগরে এখন আর ইলিশ মেলে না। গত চার বছর ধরে এমন অবস্থা হয়েছে। তার দাবি, ট্রলিং বোটের কারণে কিনার থেকে ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো ধরনের মাছ আসতে পারে না। বাচ্চা পর্যন্ত মারা পড়ছে ট্রলিং বোটের ছোট্ট ফাঁসের জালে আটকে। কুয়াকাটা সৈকতের মম্বিপাড়া থেকে গঙ্গামতি পর্যন্ত সাত-আট কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে গাছের নিচে শত শত জেলে কেউ ছেঁড়া জাল সেলাই করছেন। কেউ জালসহ সব গোছগাছ করছেন।

কেউ আবার আর একটা ট্রিপের জন্য সাগরে ছুটছেন। মহাব্যস্ততার মধ্যে কাটছে সকলের একেকটা মুহূর্ত। সকল জেলের দাবি এবারে ছোট্ট জাল দিয়ে অগভীর এলাকায় মাছ ধরা কোন ট্রলার মালিক কিংবা জেলে লাভের মুখ দেখতে পারেননি। বুধবার সকালে এলাকায় ঘুরে জেলেদের ২২ দিনের অবরোধ পালনের প্রস্তুতি দেখা গেছে। তবে এখনো শত শত মাঝারি ও বড় বোট সাগরবক্ষে রয়েছে। যারা বুধবার সন্ধ্যার পরে ঘাটে ফিরবেন বলে জানা গেছে। মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, এ বছর যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে তার ৭০-৮৫ শতাংশ ছোট সাইজের ইলিশ, জাটকা। পরিমাণে মাছ ছিল খুব কম। তবে ট্রলিং বোট মালিকরা ও বড় দুই চারটা বোটে কিছু ব্যবসা করেছেন। ৯০-৯৫ শতাংশ জেলে, ট্রলারমালিকরা লোকসানের কবলে রয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের অন্তত ৪০ হাজার জেলে পরিবার।