যৌতুকের দুই লাখ টাকা আগাম জামানত রেখে বিয়ে। এরপর প্রায় ১১ মাসের সংসার জীবনে একবারও শ্বশুরবাড়িতে নেয়া হয়নি স্ত্রীকে। এর মধ্যে দুইবার গর্ভবতী হওয়ার পর ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ মারধরের পর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে তালাকের নোটিশ। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের বাইগরপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান নাছিমা (২৫) তার স্বামী সজিব উদ্দিনের (২৯) বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন। সজিব উপজেলার মানিকচাঁদপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে এবং ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কর্মরত। নাছিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগে যৌতুক বাবদ দুই লাখ টাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হকের কাছে জামানত রাখা হয়।
বিয়ের পর সজিব ও নাছিমা ঢাকায় সংসার শুরু করেন। তবে প্রায় ১১ মাসে নাছিমাকে একবারও শ্বশুরবাড়িতে নেয়া হয়নি। নাছিমার অভিযোগ, প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার পর প্রায় দুই মাস ১০ দিন হলে তাকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানো হয়। পরে আবার গর্ভবতী হলে বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী তাকে মারধর করেন। গত ১১ই সেপ্টেম্বর বাবার বাড়িতে যাওয়ার সময় বমির ওষুধের কথা বলে তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে গর্ভপাতের পর তার ডিএনসি করা হয়। এরই মধ্যে গত ১৯শে সেপ্টেম্বর সজিব তার স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান। নাছিমা বলেন, পর পর দুইবার গর্ভবতী হওয়ার পর আমার অভিযোগ অনুযায়ী গর্ভপাত করানো হয়েছে। সর্বশেষ মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে তালাকের নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমি আইনি প্রতিকার চাই। স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নাছিমার পরিবারের আরও অভিযোগ, সজিবের আগে তিনটি বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের আগে তারা বিষয়টি জানতেন না। এ বিষয়ে সজিবের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
