এমপি মালিককে নিয়ে ফের লাইভে চেয়ারম্যান ওলিদ

এমপি মালিককে নিয়ে ফের লাইভে চেয়ারম্যান ওলিদ

ফন্ট সাইজ:

সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিক। লন্ডনের নেতা। সিলেটে এসে নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন। এক সময় রাজনীতি করেছেন সিলেটেই। দীর্ঘ দিনের গ্যাপ। এখন এমপি। বিতর্ক থেকে দুরেই ছিলেন। সম্প্রতি শহরতলীর সিলামের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে ঘিরে আলোচনা হচ্ছে। সেই আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহ ওলিদুর রহমান। চেয়ারম্যান আলোচনার জন্ম দিয়ে দু:খ প্রকাশ করেছেন। এতেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিলামে শেখ ও শাহ বংশের মধ্যে দ্বন্ধ পুরনো। এই দ্বন্ধের মুলে রয়েছে শাহ তৈয়র ছয়লানী (রহ.) ওয়াক্‌ফ এস্টেটের বিশাল সম্পত্তি। মাজারের খাদেমকে হবেন এ নিয়ে ওই দুই বংশের মধ্যে সংঘাত পুরনো। বহুবার তারা মুখোমুখি হয়েছে। এবার এই সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে দ্বন্ধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ করা হয়েছে এই দ্বন্ধের নেপথ্যে রয়েছেন লন্ডন বিএনপি নেতা আবেদ রাজা। এবার দ্বন্ধ দুর করতে উদ্যোগ নেয় ওয়াক্‌ফ এস্টেট প্রশাসন। তারা উভয়পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেন।

এতে সভাপতি করা হয় সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিককে। তবে মালিকের ঘনিষ্টজনেরা দাবি করেছেন- ওই কমিটির ব্যাপারে এমপি এমএ মালিক অবগত নয়। লন্ডন বিএনপির নেতা আবেদ রাজা ভুমিকা রেখে এমপির নাম নিয়ে এসেছেন। ২১শে আগষ্ট এ ভুমি দখল নিয়ে এক দফা সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। পরবর্তীতে এতে হস্তক্ষেপ করেন এলাকার মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা। বসেই বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েকটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। এরই মধ্যে ২রা অক্টোবর সম্পত্তি দখল-বেদখল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। আর এ দিন শেখ গোষ্ঠীর লোকজনের হামলায় স্থানীয় সিলাম বাজারে খুন হন রাসেল আহমদ শাহ। তিনি সিলাম ইউপি চেয়ারম্যান শাহ ওলিদুর রহমানের ভাতিজা। ঘটনার সময় সংঘর্ষও হয়েছে। আর এ ঘটনার পর সিলাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিবিদ শাহ ওলিদুর রহমান ভাতিজা খুনের ঘটনা শোকাহত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন। ওই বক্তব্যে তিনি ঘটনার জন্য স্থানীয় এমপি এমএ মালিক ও লন্ডন বিএনপিকে নেতা আবেদ রাজাকে দোষারূপ করেন।

এমপি এসে এ বিরোধে হস্তক্ষেপ করার কারনে তার ভাতিজা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। তবে এমপি এমএ মালিকের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিএনপির নেতারা বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকেন। ঘটনার চার দিনের মাথায় গত সোমবার এমপি এমএ মালিকের স্ত্রী ও সন্তান নিহত রাসেলের বাড়িতে যান। পরে এ ব্যাপারে ফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান ওলিদুর রহমান। তিনি তার পূর্বের বক্তব্যর জন্য দু:খ প্রকাশ করে জানান- এমপি এমএ মালিক এতে অবগত ছিলেন না। আবেদ রাজা তাকে এনে বিষয়টিকে জড়িয়েছে। তিনি পূর্বের বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ করে রাসেল হত্যার তদন্ত ও বিচারে এমপি এমএ মালিকের সহযোগিতা কামনা করেন। এমপি এমএ মালিক সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা ছেড়েছেন। যাওয়ার পূর্বে তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ওয়াকফ এস্টেট সাধারনত এমপি বা সরকারী কোনো কর্মকর্তাকে বিরোধ দমাতে সভাপতি করে। তাকেও একই ভাবে সভাপতি করা হয়েছে। তবে তিনি বিরোধ, সংঘাত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন- ওলিদ প্রথমে আবেগে বক্তব্য দিলেও পরবর্তীতে সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। সে দু:খ প্রকাশ করেছে। আমি কোনো অন্যায় প্রশ্রয় দেবো না।

সিলামে ন্যায় প্রতিষ্টার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সব করবেন বলে জানান। মামলায় আসামি ২২ : সিলামে রাসেল আহমদ শাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। নিহতের মা মোছাম্মৎ রাজনা বেগম মামলাটি করেছেন। ঘটনার দুই দিনের মাথায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেখানে প্রধান আসামি করা হয়েছে শেখ বংশের মুরব্বী ফজলু মিয়াকে। আর দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে লন্ডন বিএনপি নেতা আবেদ রাজাকে। মামলার পর আবেদ রাজা লন্ডনে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন তিনি ২৬ শে আগষ্ট লন্ডনে চলে গেছেন। রাসেল হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এ ঘটনায় তিনি জড়িত নন বলে জানান। এ সময় তিনি তার পাসপোর্টও প্রদর্শন করেন। এছাড়া মামলায় ঘটনার মুল হোতা ইয়াসিন আহমদ ফাহিম, আব্দুস সামাদ, রনি, তানিম আহমদ, সুমন আলী, শহীদ আলী, কামরান, মাহবুব, জুবের আহমদ জুবেল, রাফি, সালমান, আহমাদুর রহমান সাদেক, মাসুম, মুহিন, রাজু মিয়া, মোজাহির আলী, আলী রুবেল, গুল্লি সুয়েব, সিরাজুল ইসলাম ও উজ্জ্বল মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।