চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপিকর্মী আহাদ আলী হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলী আদালতের বিচার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. তহমিনা খাতুন এ আদেশ দেন। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী ও নুরুল ইসলামসহ এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চার্জশিট দিয়েছিল পুলিশ। আদালতে চার্জশিট দাখিলের সময় মামলার বাদী মোসা. লিসা খাতুন অভিযোগ করেছিলেন, তার স্বামী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের বাদ দিয়ে এ চার্জশিট দেয়া হয়েছে। পরে চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দাখিল করেন। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে নারাজির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অংশ নেন বাদীর আইনজীবী এমদাদুল হক লুটু।
তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আহাদ আলী চলতি বছরের ২রা জানুয়ারি রাত থেকে নিখোঁজ হন। ৮ই জানুয়ারি আহাদের স্ত্রী লিসা বেগম (৩০) বাদী হয়ে স্বামীকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ছিলেন চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলী (৫২) ও সদর উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম মেম্বার (৫০)। অপহরণের ১৯ দিন পর গত ২০শে জানুয়ারি আলাতুলির মধ্যচরে পদ্মা নদী থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুখের দুই পাটি দাঁত ভাঙা ছিল। শরীরের নিচের দিকে বেশ কয়েকটি বড় ক্ষতও রয়েছে।
মুখ ও মাথা ছিল থেঁতলানো। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আহাদকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। আইনজীবী জানান, মামলাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক তদন্ত করেন। সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হলেও চার্জশিটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি এজাহারে থাকা উল্লেখযোগ্য আসামিদের বাদ দিয়ে আদালতে মনগড়া চার্জশিট দিয়েছেন। মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে নারাজি আবেদন করা হয়। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী লিসা খাতুনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্তে মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা হয়েছে। তার স্বামীকে হত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী ও নুরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ জন্য এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছিলাম। আদালত সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনার তিনি সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার দাবি করেন।
