জমি নিয়ে বিরোধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে প্রবাসীর ঘরে আগুন

জমি নিয়ে বিরোধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে প্রবাসীর ঘরে আগুন

ফন্ট সাইজ:

জমি নিয়ে বিরোধ। আদালতে দায়ের করা হয় মামলা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ। পরে ৭০ বছর বয়সী সৌদিফেরত কৃষককে চাপে ফেলতে তার বিরুদ্ধে আনা হয় শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ। মীমাংসার জন্য সালিশি ডাকা হলে হাজির হয়নি কৃষক হাবলু শিকদার। শেষমেশ তার বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের পর করা হয় অগ্নিসংযোগ। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। তার আগেই পুড়ে ছাই বসতঘর। কৃষকের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও আগুন দেয়ার ঘটনা অস্বীকার করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটায় এমন কর্মকাণ্ড। জানা যায়, সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে ১০ বছর আগে জমি কিনে মাদারীপুরের কালকিনির ‘চর সাহেবরামপুর’ গ্রামে একটি দোতলা টিনের ঘর নির্মাণ করেন নদীভাঙনের শিকার কৃষক হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদার।

বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আশপাশের লোকজন। নিজের ক্রয়কৃত জমি নিয়ে শুরু হয় প্রতিবেশী কামাল মালের সঙ্গে বিরোধ। পরে ২০২২ সালে আদালতে দ্বারস্থ হন হাবলু। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ। পরে কামাল মালের প্রতিবেশী ৫ বছরের এক শিশুকে দিয়ে কৃষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ২রা অক্টোবরের ঘটনার তিনদিন পর সোমবার বিকালে নির্ধারণ করা হয় আপস-মীমাংসা। সেখানে হাবলু উপস্থিত না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তার বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে ঘরে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই পুড়ে যায় বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বলটুকু। ক্ষতিগ্রস্ত হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদার বলেন, আমার অপরাধ, আমি আদালতে কেন মামলা করলাম। সেই জেরেই আমার ওপর ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ এনে এলাকাছাড়া করেছে। একপর্যায়ে বাড়িঘরে লুটপাট-ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ।

আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। হাবলুর ভাতিজা বাদল শিকদার বলেন, আমার চাচা যদি কোনো অন্যায় করে, সেজন্য থানা আছে, আদালত আছে। সেখানে তার বিচার হবে। কিন্তু মব সৃষ্টি করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া এটা চরম অন্যায়। এর বিচার না হলে অন্য এলাকায়ও এমন ঘটনা বারবার ঘটেই যাবে। শিশুর বাবা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে সেটার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সেখানে হাবলু হাজির না হলেই বিক্ষুব্ধরা মিছিল নিয়ে তার বাড়ির দিকে চলে যায়। এরপর শুনতে পারি বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তখন আমি কালকিনি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। মাদারীপুরের কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, কারও বসতঘরে আগুন দেয়া গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করে ভুক্তভোগীর স্ত্রী দোলোয়ারা বেগম। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হাবলু শিকদারকে একমাত্র আসামি করে মঙ্গলবার সকালে থানায় মামলা করেন মেয়েটির পরিবার। দু’টি মামলাই তদন্ত চলছে।