চট্টগ্রামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) যৌথ অভিযানে নকল সার তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। বুধবার বিকালে নগরের সদরঘাটে জিলানি এন্টারপ্রাইজের এবং অন্যটি চৌধুরী মাঝির গুদামে এ অভিযান চালানো হয়। দু’টি গুদামে পচা ও মানহীন ডিএপি সারের সঙ্গে ভালো মানের সার মিশিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা।
অভিযান সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব গুদাম থেকে এরই মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার বস্তা ভেজাল ও মানহীন সার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি বিএডিসি’র বস্তা ব্যবহার করে এসব সার সরকারি গুদামেও সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানে গুদামে স্তূপ করে রাখা হাজার হাজার বস্তা সার দেখা যায়। কোনো কোনো বস্তা থেকে রাসায়নিক ও পানি গলে বের হচ্ছিল। আবার কিছু বস্তার সার ইটের মতো শক্ত হয়ে গেছে। এসব সারের মান ও মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পাশের আরেকটি গুদামে পাওয়া যায় পচা সারের স্তূপ। সেখানে পচা ও মানহীন সারের সঙ্গে ভালো মানের ডিএপি সার মেশানো হচ্ছিল। পরে এসব সার বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হতো বলে জানান কর্মকর্তারা। বিএডিসি’র কর্মকর্তারা জানান, সরকারি কোন কোন গুদামে এসব সার গেছে, কোথায় তা সরবরাহ করা হয়েছে এবং কারা এসব সার কিনেছে- এসব তথ্য তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ভেজাল সার তৈরির সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গুদামের এক পাশে কয়েকশ’ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বস্তাও পাওয়া গেছে। এসব বস্তায় করে মানহীন সার সরকারি গুদামেও পাঠানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
