প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার হলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাঁচটি আবাসিক হলে আসন রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৫০টি। ফলে প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করা উপকূলীয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩১টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা চলছে। শিক্ষার্থী বাড়লেও আবাসন সুবিধা বাড়েনি। ফলে বাধ্য হয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে দূরে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে, যা নোয়াখালীর মতো স্থানে তাদের পড়ালেখার ব্যয়ের পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচও অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর। মেসে থাকার অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জানা গেছে, ৫টি হলের মধ্যে ছাত্রদের ২টি হলের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হলে ৪৩০টি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলে ৫১১টি এবং ৩টি ছাত্রীদের হলের হযরত বিবি খাদিজা হলে ৪৩৫টি, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ৬১০টি এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ছাত্রী হলে ৫২০টি আসন রয়েছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজভীর আহমেদ জানান, দূর থেকে এসে হলে সিট না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাইজদীতে থাকতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় নষ্ট হওয়ায় শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে, যা পড়াশোনা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী আবাসন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “সমস্যা নিরসনে ছেলেদের ২টি ও মেয়েদের ২টি হল (মোট ৪টি নতুন হল) এবং একটি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
