জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া, আসাদুল। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১০ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ১৩ আসামির মাঝে ১১ আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
পলাতকদের মাঝে একজন ফাঁসির আসামি ও অপরজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলার নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামারির হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ব থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২০১৫ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি চর ভোলামারি চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন সবি। এ সময় অভিযুুক্তরা অতর্কিত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করে সবিকে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তদন্তে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুল পলাতক রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আনোয়ার আজিজ টুটুল ও আসামিপক্ষে এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল মামলাটি পরিচালনা করেন।
