জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির পথে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির পথে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা

ফন্ট সাইজ:

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির পথে নেমেছেন বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে কমিশনের ভবন থেকে ২০০ মিটার দূরে আটকে দেওয়া হয়েছে মিছিল। কমিশন পর্যন্ত পৌঁছতে না পেরে রাহুলরা ধরনায় বসে পড়েছেন নীতি আয়োগের সামনে। বেশ কয়েকজনকে দেখা গিয়েছে ব্যারিকেডের উপরে বসে থাকতে। পুলিশ বাধা দেওয়ায় রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সাংসদরা। বিরোধীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়েছেন— ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’। এক সময় রাহুল, প্রিয়াঙ্কা পাশের আকাশবাণী ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। এ দিনের মিছিলে রয়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম, এনসিপি (শরদ)-এর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডির মনোজ ঝাসহ বিরোধী জোটের অন্য সাংসদরাও। ইন্ডিয়া জোটের ১৯টি দলের ২৩৭ জন সাংসদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। তবে ডিএমকে ও আপ এই মিছিলে অংশ নেয়নি।
কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে বলেছেন, “আমাদের লড়াই অবিচারের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর আমরা যে সর্বজনীন ভোটাধিকার পেয়েছিলাম, সরকার তা খর্ব করার চেষ্টা করছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সরকারের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন। মোদি ও শাহ যা বলেন, তিনিও তা-ই করেন। এমনটা চলতে থাকলে একনায়কতন্ত্রের সূচনা হবে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”

বিরোধীদের নির্বাচন সদন অভিযান ঠেকাতে দিল্লির রাস্তায় সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ। দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের গেটের কাছেও অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সংসদ ভবন, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের আশপাশের এলাকা, নির্বাচন সদনের গেটের কাছেও। সংসদ ভবনের আশপাশের রাস্তায়, কমিশনের অফিসের বাইরে এবং সরকারি অফিসগুলির কাছে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।
মিছিলে পুলিশ বাধা দেওয়ার পরে সমাজবাদী পার্টির কয়েক জন সাংসদ ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েছিলেন। ব্যারিকেডে বসে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ বলেছেন, “নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অতীতেও অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এ বার তো পশ্চিমবঙ্গে ওরা পুরো নির্লজ্জের মতো আচরণ করেছিল।”
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে পড়েছে। এদিনের মিছিলের উদ্দেশ্য ছিলো, নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে, বিশেষ করে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।

ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নিয়ে বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজ গোষ্ঠীগুলোর সমাবেশের ডাকের মাধ্যমে ২ অক্টোবর থেকে এই প্রতিবাদ মূলত শুরু হয়েছে।
এদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি ইমরান মাসুদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ থেকে ডিএমকে ও আম আদমি পার্টির মতো দলগুলোর দূরে থাকার সমালোচনা করে বলেছেন, গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে কোনো “মধ্যপন্থা” নেই। মাসুদ বলেন, যারা রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন না, তারা কার্যত বিজেপির পাশেই দাঁড়াচ্ছেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি কেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সমর্থন করছে।