সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি’র গোছানোর আগে সাজানো হচ্ছে অঙ্গসংগঠনের কমিটি। এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রের তরফ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। শুক্রবার ঘোষণা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটি। এখন স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শিগগিরই ঘোষণা করা হতে এসব কমিটি।
সিলেট বিএনপি’র নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন— সিলেট জেলা বিএনপি’র মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মহানগর বিএনপি’র কমিটির মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। আন্দোলনকালীন সময়ে গঠিত কমিটি দিয়ে এতদিন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এ কারণে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের দাবি হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ দু’টি কমিটি গঠন করা। মহানগরে বাকি থাকা ১৫টি ওয়ার্ড ও ৬ থানা বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। নগর বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন— আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তারা নগরের বিএনপি’র তৃণমূল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন। জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তবে নেতারা জানিয়েছেন— ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে হয়তো জেলার কমিটি আসতে বিলম্ব হতে পারে। এই অবস্থায় সিলেট বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনকে গোছানোর কাজ শুরু হয়েছে। গত ২০শে সেপ্টেম্বর সিলেট সিলেট জেলা ও নগর যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এবার আর কাউন্সিলে কমিটি গঠন করা হয়নি। কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে জেলার সভাপতি হয়েছে কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের সময় আহত জুলাইযোদ্ধা আব্দুস সালাম টিপু। নগর যুবদলের সভাপতি হয়েছেন মীর্জা সম্রাট হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী দিনার আহমদ। এ দু’টি কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্র থেকে কমিটি চাপিয়ে দেয়ায় যুবদল নিয়ে ভেতরে কিছুটা বাষ্পের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার গঠন করা হয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটি। মো. মনিরুল ইসলামকে সভাপতি শিহাব উদ্দিন শিহাবকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। ১০৫ সদস্য এ কমিটির সদস্যদের তালিকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক। বছরখানেক আগে গঠন করা হয়েছে জেলা ও নগর তাঁতীদলের কমিটি। বর্তমানে এ দলের সিলেটের নেতা উপজেলা, পৌর কমিটি গঠনের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ চালাচ্ছেন। সিলেট ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। ইতিমধ্যে যুবদলের ঘোষিত নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাজী দিনার আহমদ। এক ব্যক্তি দুটি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হচ্ছে।
তবে গত ৫ মাস ধরে সিলেটে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে তোড়জোড় চলছে। এবারের কমিটিতে নতুন মুখের নাম শোনা যাচ্ছে। গ্রুপভিত্তিক নেতারা নিজেদের গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে জোর লবিংও চালাচ্ছেন। এতে রয়েছে কয়েকজন লন্ডনী নেতার দাপটও। তারা ধীরে ধীরে সিলেট বিএনপি’র কমিটিগুলোতে হস্তক্ষেপ করছেন। এ কারণে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সিলেটের নেতাদের দাবি আন্দোলনকালীন সময়ে যারা ভূমিকা রেখেছে, ক্যাম্পাস ভিত্তিক রাজনীতিতে যাদের ভালো অবস্থান রয়েছে তাদেরকে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক। ক’দিন ধরে সিলেট জেলা ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি নিয়ে তোড়জোড় চলছে। সাবেক ছাত্র নেতাদের অনেকেই জেলা ও নগরের শীর্ষ পদে আসতে লবিং চালাচ্ছেন। বর্তমান কমিটি গঠনের পর থেকে গত তিন বছর সিলেটে বিতর্ক ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। আন্দোলন সংগ্রামেও তাদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন— সিলেটে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে গোছানোর কাজ চলছে। কিছু কিছু কমিটি ঘোষণা হচ্ছে। আরও কয়েকটি কমিটি নিয়ে কাজ চলছে। দলকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম গোছানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তিনি। বলেন- বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তরফ থেকে আমরা ইতিমধ্যে সিলেট বিভাগে সাংগঠনিক সভা করেছি। সিলেটের সাংগঠনিক সভা শেষ করে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী এখন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও কাজ শুরু করেছেন। আগামী ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলে দলকে চাঙ্গা করতেও কাজ করা হচ্ছে।
