দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে গণতন্ত্র সুসংহত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে নারীদের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, প্রয়োজন নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতিসংঘের নির্বাচনী প্রকল্পের আয়োজনে ‘ড্রাফট জেন্ডার ইকুয়ালিটি স্ট্রাটেজি’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন সিইসি।
এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রকে বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই করতে চাই, তবে দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।’ কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম হবে বলে মন্তব্য করেন সিইসি। এর পেছনে সংস্কৃতি ও মানুষের বিশ্বাস বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচনে নারীদের যথাযথ অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ থাকা উচিত।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রার্থীরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নারীদের সুরক্ষায় শক্ত আইন রয়েছে। তবে নারীর অধিকার সুরক্ষায় শুধু আইন থাকলেই হবে না। পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তন প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ বলেন, সমস্যার গভীরে যেতে হবে। নারী ভোটার বাড়াতে হলে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে নারীদের ভোটার নিবন্ধন সহজ করতে হবে। নারী ভোটার ও প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে নারী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকারে তাদের জন্য পদ সংরক্ষিত আছে। সেখানে ভালো করলে জাতীয় রাজনীতিতেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
