নকআউটে পর্তুগাল, জয়ে ফিরলো ডেনমার্ক-নেদারল্যান্ডস

নকআউটে পর্তুগাল, জয়ে ফিরলো ডেনমার্ক-নেদারল্যান্ডস

ফন্ট সাইজ:

উয়েফা নেশনস লীগের নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোহীন পর্তুগাল। গত রোববার শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দারুণ প্রত্যাবর্তনে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে পা রাখে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচে শতভাগ জয় পর্তুগালের। একই দিনে জয়ের ধারায় ফেরে ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস। এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ের ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে নরওয়েকে চাপে রাখে পর্তুগাল। বল দখলে ৫৫ শতাংশের বেশি আধিপত্যের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ২০টি শট নেয় তারা।

এর মধ্যে সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নরওয়ের ৯ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল। ২২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কান্সেলোর নেওয়া জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক এগিল সালভিক। এরপর ৩১ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার শটও ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপরই লিড নেয় নরওয়ে। ৩৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক হাফ ভলিতে ভাইকিংসের এগিয়ে নেন ক্রিস্টোফার আইয়ের। তবে মাত্র দুই মিনিট পর পর্তুগালকে সমতা ফেরান জোয়াও কানসেলো। ৭৯ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের চমৎকার লে অফ থেকে জয়সূচক গোলটি করেন গনসালো রামোস। শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওকে। তবুও গ্রুপ এ ফোর-এ জয়যাত্রা অব্যাহত রাখে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।
একই গ্রুপে ওয়েলসের মাঠে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারায় ডেনমার্ক। জয়সূচক গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। স্পটকিক থেকে গোলটি করেন রাসমুস হইলুন্দে। সবশেষ চার ম্যাচে এটি তার তৃতীয় গোল। ওয়েলস শুরুতে ভালো খেললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডেনমার্ক। ৭৩ মিনিটে ওয়েলসের গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড ডি-বক্সের ভেতর ডেনিশ ফরোয়ার্ড গুস্তাভ ইসাকসেনকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টি দেন। পরবর্তীতে ৭৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সফল স্পটকিকে গোলটি করেন রাসমুস। নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে আবারো গোলের দেখা পায়নি জার্মানি। থেসালোনিকিতে গ্রিসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা। প্রথমার্ধে ১৫টি আক্রমণ তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি জার্মানরা। ডেভিড রাউমের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন কোস্তাস জোলাকিস। অন্যদিকে গ্রিসের জর্জোস মাসুরাসের হেড রুখে দেন জোনাস উরবিগ।
আইন্দহোভেনে সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোচ জাভি হার্নান্দেজের অধীনে অপরাজিত থাকলো নেদারল্যান্ডস। ৩১ মিনিটে তিউন কুপমেইনার্স ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন। চার মিনিট পর সার্বিয়াকে সমতায় ফেরান ১৮ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার মিহাজলো সভেটকোভিচ। আলেকসা তেরজিকের চমৎকার এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডের মাধ্যমে সমতাসূচক গোলটি করেন তিনি। এটি জাতীয় দলের হয়ে মিহাজলোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। প্রথমার্ধে সার্বিয়া সমতায় ফেরার পর ৭১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে জয়সূচক গোলটি করেন জশুয়া জিরকজে। কসোভোর মাঠে ১-১ ড্র করে গ্রুপ বি থ্রি-এর শীর্ষস্থান ধরে রাখে অস্ট্রিয়া। আয়ারল্যান্ডের ট্রয় প্যারট টানা তিন ম্যাচে চার গোল করে ইসরায়েলের বিপক্ষে ১-১ ড্র করান দলকে। আজারবাইজান লিথুয়ানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ডি২-এর শীর্ষে উঠেছে। আর অ্যান্ডোরাকে ১-০ গোলে হারায় মাল্টা। মঙ্গলবার মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়া-স্পেন, ইংল্যান্ড-চেক প্রজাতন্ত্র, স্কটল্যান্ড-স্লোভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ড-উত্তর মেসিডোনিয়া।