২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এই গ্রুপে টাইগারদের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও বাছাইপর্ব থেকে আসা একটি দল। বিশ্বকাপে ১২টি দল দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী দুই গ্রুপের তিনটি করে দল ও বাড়তি একটি দল মিলিয়ে সাতটি দল উঠবে পরবর্তী পর্বে। পরের ধাপে পৌঁছাতে বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্বে অন্তত তিন ম্যাচে জয় পেতে হবে। কন্ডিশন এবং টপ অর্ডারের ব্যাটিং ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে গ্রুপ সমীকরণ নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে রাজি নন নির্বাচক হাবিবুল বাশার। দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি আগেই শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের সফর ও জাতীয় দলের আসন্ন সফরগুলোর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে। আর বিশ্বকাপে সহজ বা কঠিন গ্রুপ বলে কিছু থাকে না; যেকোনো দল যেকোনো দিন জিততে পারে। গ্রুপ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে। বিশ্বকাপের সময়ে খেলোয়াড়দের সেরা ফর্মে থাকা এবং ইনজুরিমুক্ত থাকাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’
অন্যদিকে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে টাইগারদের টপ অর্ডারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সবশেষ এশিয়ান গেমসও একই ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অধিনায়ক শান্ত দলে ফেরায় ভরসা ফিরলেও সমস্যা কাটছে না। ওপেনিং ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শান্তর ভূমিকা প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘কিছুটা চিন্তায় তো ছিলামই। অধিনায়ক হওয়ার পাশাপাশি শান্ত আমাদের টপ অর্ডারের অন্যতম প্রধান ব্যাটার। ওর দলে থাকাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ হয়ে ফেরায় অবশ্যই বড় স্বস্তি এসেছে।’ একই সঙ্গে রানসংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি বড় সমস্যা, বিশেষ করে টপ অর্ডারে। যেসব ম্যাচে দল জয় পেয়েছে, সেগুলোতে টপ অর্ডারের অবদান ছিল স্পষ্ট। আমাদের ব্যাটারদের স্কিল নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে সব ফরম্যাটেই ওপেনিং ও টপ অর্ডারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ভীষণ জরুরি।’
দেশের বাইরে খেলতে নামলেই উইকেটের চরিত্র বদলে যায়। কন্ডিশন পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয়ার ব্যাপারে ঘাটতি দেখা গেছে বারবার। এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বিদেশে ব্যাটারদের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে এখন থেকে প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ তৈরি হচ্ছে। কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন দলীয় নির্বাচকরা। দেশের বাইরে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো নিয়ে ভাবছেন বিসিবি কর্তারা। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘সব সময় ব্যাটিংবান্ধব কন্ডিশন পাওয়া যাবে না। তবে সেটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো যাবে না। মূল বিষয় হলো, একটু ভিন্ন বা চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে আমাদের মানিয়ে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। খেলোয়াড়দের স্কিলে ঘাটতি নেই, কিন্তু মানিয়ে নেয়ার দক্ষতায় উন্নতি আনতে হবে। বড় মঞ্চে ভালো করতে হলে এটি আবশ্যক।’
ম্যাচ হারের পর উইকেট কিংবা আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে হাজির করার প্রবণতা দেখা যায় প্রায়ই। এশিয়ান গেমসেও এমনটা হয়েছে দলের ব্যর্থতার পর। তবে ক্রিকেট সংস্কৃতি থেকে এই মানসিকতা দূর করার তাগিদ তৈরি হচ্ছে। আফ্রিকান উইকেটে পেস ও বাউন্সের মুখে পরীক্ষা দিতে হবে ব্যাটারদের। অতীতের পরিসংখ্যান ভুলে গিয়ে নিজেদের শক্তির জায়গায় নজর রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের কন্ডিশনের প্রস্তুতি সারতে দলীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অজুহাত বন্ধ করে মাঠের পারফরম্যান্সে নজর দেওয়ার কথা ভাবছেন নির্বাচকরা। উইকেট বিতর্ক নিয়ে বাশার বলেন, ‘কন্ডিশন সবার জন্যই সমান থাকে। আর বিশ্বকাপের মতো আসরে উইকেট সাধারণত বেশ ভালোই হয়। আমার মনে হয় না এখন আর কেউ কন্ডিশনকে অজুহাত হিসেবে বিবেচনা করে। মূল ফোকাস হওয়া উচিত কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে সেরাটা দেয়া। তবে গেমসগুলোতে আসলে উইকেট নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। যদিও এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার আমরা করতে চাই না।’
