মালয়েশিয়া থেকে চলতি বছর মিয়ানমারে ফিরেছে ১০ হাজার অভিবাসী

মালয়েশিয়া থেকে চলতি বছর মিয়ানমারে ফিরেছে ১০ হাজার অভিবাসী

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছর মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আরব নিউজের।

এদিকে মিয়ানমারে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর মালয়েশিয়ার উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আশঙ্কা, অস্বচ্ছ এই প্রক্রিয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
গতকাল রোববার ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে নিয়ে একটি জাহাজ ইয়াঙ্গুনের কাছে পৌঁছায়। এর আগে মালয়েশিয়া জানায়, মিয়ানমার মোট ৫ হাজার নাগরিককে ফেরত নিতে সম্মতি দিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব বাড়ার মধ্যেই এই প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ফেরত পাঠানোদের মধ্যে রোহিঙ্গারাও থাকতে পারেন। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে সহিংস নিপীড়নের শিকার এই জনগোষ্ঠী। তবে ফেরত পাঠানো নাগরিকদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে মালয়েশিয়া কোনো মন্তব্য করেনি।

সোমবার মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজের পাশাপাশি বিমানে করেও বড় পরিসরে প্রত্যাবাসন চলছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিমানে ৮ হাজার ৪১ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

মিয়ানমারের দাবি, জাহাজ ও বিমানে করে এ বছর মালয়েশিয়া থেকে মোট ৯ হাজার ৫১৭ জন দেশে ফিরেছেন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার দাবি, আটক কেন্দ্রগুলোতে থাকা অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিয়ানমারের ভাষ্য, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সাজা শেষে এসব কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিরা নানা সমস্যায় পড়েছিলেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব আটক কেন্দ্রের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাও বলেছে, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তগুলো সত্যিই স্বাধীন ও সচেতন ছিল কিনা, তা যাচাই করতে তাদের কর্মকর্তাদের সুযোগ দেয়া হয়নি।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পর্যবেক্ষক সংস্থা এসিএলইডির হিসাবে, এরপর দেশটিতে ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তা অস্বীকার করে আসছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা।

রোববার ১ হাজার ৪৭৬ জনকে বহনকারী জাহাজটি ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণে থানলিন বন্দরে ভেড়ার পর তাদের কয়েকজনকে পরিচয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মঠের অস্থায়ী কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং নিজ নিজ এলাকায় পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।