রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে মাহিমা নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী, রোগী ও স্বজনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর ঘটনাটি মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে শাহরিয়ার সবুজ নামের রোগীর আত্নীয় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যা থেকেই হাসপাতালের আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় দল বেঁধে অবস্থান নেয় স্থানীয়রা। এদিকে হাসপাতালে স্টাফরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিতে থাকেন তাদের। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তারা হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে পারেননি অভিযুক্ত পক্ষ। এক পর্যায়ে লোকজন হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগেই শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের এডমিন অফিসার ফিরোজ মানবজমিনকে বলেন, ‘রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পেরে লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে গেলেও পরে রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ার সবুজ হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। আমরা তাদের জানিয়েছি, ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। এভাবে কাউকে টাকা দেয়া হবে না। রোববার দুপুরে এ বিষয়ে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও তারা আসেননি। বিকাল থেকেই প্রায় ১০০ লোক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেন। তারা রাতেই আলোচনায় বসতে চেয়েছেন এবং টাকা দাবি করেন। আমরা জানিয়ে দিই পরের দিন বসার কথা। কারণ ততক্ষণে সকল কর্মকর্তা হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। এক পর্যায়ে তারা হামলা করে।’
এদিকে নিহতের আত্নীয় শাহরিয়ার সবুজ টাকা দাবি করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় আমরা ভুক্তভোগীর নিকটাত্মীয় হিসেবেই উপস্থিত ছিলাম। আমাদের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা দাবির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা পুরো ভিত্তিহীন। বরং হাসপাতালের কর্মচারিরাই আগে আমাদের ওপর হাত তুলেছে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেররা ভিডিও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার সবুজ বলেন, আমরা কোনো টাকা দাবি করিনি। বরং ভুল চিকিৎসার ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই আমাদের চাকরি এবং আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, ‘রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযুক্ত ও সাংবাদিক থানায় অভিযোগ করেছেন।’
