ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল ও হানিফের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি প্রসিকিউশনের

মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল ও হানিফের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি প্রসিকিউশনের

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন পক্ষ। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-২ এ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী তামিম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গাজী তামিম জানান, ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন নির্দিষ্ট ৩০ দিনের মধ্যেই ইনুর সাজা বৃদ্ধির জন্য আপিল দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদনে মোট ১১টি গ্রাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগসাজশ, আন্দোলন দমন, কারফিউ জারির পরামর্শ ও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে ইনুর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। এই পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ১০ বছরের সাজা পরস্পরবিরোধী (contradictory)। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনতত্ত্ব (Jurisprudence) অনুযায়ী অপরাধের গভীরতা (gravity) এবং আক্রমণের মাত্রার পাশাপাশি সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন বেসামরিক সুপিরিয়র কমান্ডারের বক্তব্য ও আদেশ সাধারণ নির্দেশনার চেয়েও অপরাধ সংঘটনে গভীর পরিবেশ তৈরি করে, যা আন্তর্জাতিক নজিরে প্রতিষ্ঠিত। ফলে যে সকল অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতেও সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হয়েছে।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের মামলার বিষয়ে প্রসিকিউটর জানান, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি-তর্ক শেষ করে হানিফসহ চারজনের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে হানিফ সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। একই পর্যায়ের নেতা হিসেবে দলের অন্যান্য শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে রায় ও পর্যবেক্ষণ এসেছে, তার ওপর ভিত্তি করে এবং এসপিসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে টেলিফোনে নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এ মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৭ তারিখ।
এনটিএমসি (NTMC) থেকে তথ্য পাওয়ার জটিলতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরপর তদন্ত শুরুর দিকে তারা অসহযোগিতা করেছিল এবং কিছু কল রেকর্ড মুছে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে সেগুলো উদ্ধার ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রের সব দপ্তর থেকে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন।