যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল স্থল হামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইরান। এর প্রস্তুতিতে এবার সাধারণ নাগরিকদেরও সামরিক প্রশিক্ষণে নামাচ্ছে দেশটি। এজন্য রাজধানী তেহরানে নতুন একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শনিবার তেহরানের হাফত-ই তীর স্কয়ারে কেন্দ্রটি চালু করা হয়। সাধারণ মানুষকে নিয়ে প্রায় এক হাজার ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। এ খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি।
তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারের পর এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য দ্বিতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। শনিবারের উদ্বোধনী আয়োজনে হাজির ছিলেন দেশটির সেনাবাহিনী ও বাসিজ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে দেখা যায়, সাধারণ নাগরিকেরা বিমানবিধ্বংসী কামান চালানো শিখছেন, দেয়াল ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা টপকানোর কসরত করছেন এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) প্রযুক্তির সহায়তায় অস্ত্র চালানোর মহড়া দিচ্ছেন।
বাসিজ বাহিনীর প্রশিক্ষণ শাখার উপপ্রধান আলী কাওসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আত্মরক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে এক হাজার ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শত্রুরা যদি আবার কোনো ভুল হিসাব করে হামলা চালায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই রুখে দাঁড়ানো হবে।
অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়ানা জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর চারটি শাখা থেকেই অভিজ্ঞ সদস্যদের এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রথমে প্রাথমিক এবং পরে উন্নত সামরিক কলাকৌশল শেখানো হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি হলেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের শঙ্কা এখনো কাটেনি।
সাধারণ নাগরিকদের এভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার নজির বিশ্বে অবশ্য নতুন নয়। ইসরাইলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডে প্রায় সব সক্ষম নাগরিককে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সংরক্ষিত বাহিনী হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনও একইভাবে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেছিল। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানেও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক কৌশল শেখানোর এমন বিধান রয়েছে।
