কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত কয়েকটি বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে কোরবানপুর এলাকার উত্তরপাড়া ও সৌদিয়ান (দক্ষিণ) পাড়া বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কোরবানপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের ওপর সৌদিয়ান পাড়ার কয়েকজন লোক হামলা চালিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে উত্তরপাড়ার দেড় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সৌদিয়ানপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় হামলাকারীরা কয়েকটি বসতবাড়ি, স্থানীয় বাজারের দোকানপাট এবং দু’টি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হঠাৎ এ হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর আলী ও আমির হোসেনসহ অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে আমির হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, এলাকার দুই জনপ্রতিনিধি ওমর আলী মেম্বার ও করিম মেম্বারের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিকে কেন্দ্র করে রনি নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতবিনিময় করেন। বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
