বান্দরবানে দুর্নীতিগ্রস্তদের পদায়ন বন্ধ করা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের প্রতিরোধে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বান্দরবান প্রেস ক্লাবে বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য বান্দরবান পার্বত্য জেলার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৬ সালের জুন মাসে বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধ, কেমিক্যাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের টেন্ডারে প্রায় ৪ কোটি টাকার নয়ছয় ও সিন্ডিকেটের খবর গণমাধ্যমে আসে। ১ কোটি টাকার ওষুধ কিনে ৪ কোটি টাকার ভুয়া বিল উত্তোলনের মতো চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী। এই দুর্নীতির তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের তীব্র প্রতিবাদের মুখে গত ২০শে আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে ওএসডি করে ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ওএসডি করার মাত্র এক মাসের মাথায় আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে পুনরায় বান্দরবানের সিভিল সার্জন পদে বহাল করা হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, সেতুতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের মতো জঘন্য অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার এক প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বদলি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেকোনো দুর্নীতিবাজ আর অপরাধপ্রবণ সরকারি কর্মকর্তাকে শাস্তি হিসেবে বান্দরবানে বদলি করার মাধ্যমে বান্দরবান জেলাকে দেশের অন্যান্য জেলায় কাছে ছোট করার শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে অবিলম্বে সিভিল সার্জনের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা এবং তার দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত করা, সেতুতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারকারী দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বদলির আদেশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করা, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বান্দরবানে শাস্তিমূলক বদলি করার এই বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক প্রথা আইন করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের চিহ্নিত দোসরদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
