দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৮)’র মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার দুইমাস ১০ দিন পর শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতের বাবা ঘটনার পর জিডি করার কথা বললেও পুলিশ বলছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো জিডি হয়নি। তবে মামলা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফারজানার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন, এখন পর্যন্ত নিহতের বাবা আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমন্বয় করেননি। তবে এ ঘটনায় নানা ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২-১৪ বছর আগে সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়ার সঙ্গে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের অহিদ মিয়ার মেয়ে ফারজানার সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর প্রবাসে চলে যান স্বামী সবুজ।

ইতিমধ্যে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এহসানুল হক তাসনিদ নামের ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান। ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অনার্স পড়ছিলেন। স্বামী সবুজ প্রায় ৫ বছর ধরে সৌদিতে আছেন। ফাইনাল পরীক্ষা দিতে ফারজানা এই বছরের জুন মাসের প্রথম দিকে বাবার বাড়ি নোয়াগাঁও গ্রামে যান। ওই বাড়িতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ফারজানার এক ছোট বোনও বসবাস করেন। ২২শে জুলাই রাতে যথারীতি ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে দুর্বৃৃত্তরা ঘুমন্ত ফারজানার উপর হামলা চালায়। এ সময় শরীর ও মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে। ভোরে পরিবারের লোকজন দেখতে পায় রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে ফারজানা। মাথার আঘাত খুবই জটিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক সন্তানের জননী ফারজানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত দুইমাস ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে গতকাল সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর গতকাল পাওয়ামাত্র বাবার, স্বামীর বাড়ি ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই নৃশংস ঘটনার দুইমাস পরও হামলাকারীরা চিহ্নিত না হওয়ায় তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নানা ধরনের প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলছেন, বসতঘরের দরজা-জানালা ও কোলাপসিবল গেটসহ সব ভেতর থেকে লাগানো। তারপরও দুর্বৃত্তরা কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করলো ও বেরিয়ে গেল? এত বড় ঘটনা ঘটার পরও ছোট বোনসহ অন্যদের ঘুম ভাঙেনি কেন। নিহতের বাবা অহিদ হোসেন বলেন, ভোরবেলা উঠে দরজা খোলা পেয়েছি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছি। কে বা কারা আমার এত বড় ক্ষতি করেছে বুঝতে পারছি না। থানায় জিডিও করেছি।

শ্বশুর মো. ফজল মিয়া বলেন, ঘটনার দেড়মাস আগে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার কথা বলে ফারজানা বাবার বাড়িতে গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিয়াই (অহিদ হোসেন) আমার সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় করেননি। আমি না জেনে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না। তিনটা জীবন শেষ হয়ে গেল। আমার নাতিটা কী নিয়ে বাঁচবে। সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো জিডি/মামলা করেননি। শনিবার ঢাকা থেকে মৃত্যুর সংবাদটি জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।