ফুটবল মাঠে নিজের নজরকাড়া ঝাঁকড়া চুল, অফুরন্ত শক্তি আর আক্রমণাত্মক শৈলী দিয়ে খুব কম সময়েই ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন মার্ক কুকুরেয়া। এর মধ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় ফের আলোচনায় এই তারকা ডিফেন্ডার।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলার সময় বরাবরের মতো কূটনৈতিক পথ মাড়াননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার। বরং রসিকতার সুরে উপস্থিত সবাইকে হাসিতে মাতিয়ে তুলে তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে ভোট দিতে বলা হয়, তবে আমি নিজেকেই ভোট দেবো!’
অবশ্য মুহূর্তেই সিরিয়াস হয়ে সতীর্থদের প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাগ্যক্রমে আমার দলের দুই তারকা (রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও স্পেনের লামিন ইয়ামাল) এই খেতাবের দৌড়ে রয়েছেন। আমি চাই, যার সত্যিকারের যোগ্যতা আছে, সেই যেন এই পুরস্কার জেতেন। যিনিই জয়ী হোন না কেন, আমি সমানভাবে খুশি হবো। তাছাড়া, সতীর্থদের সাফল্যের পেছনে আমারও সামান্য অবদান থাকায় তারা আমাকে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ছোট উপহার দেবে!’
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজের স্টাইল ও ফ্যাশনের জন্য ভক্তদের কাছে আলাদা এক আকর্ষণ কুকুরেয়ার। সমর্থকদের এমন ভালোবাসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি নির্দিষ্ট করে জানি না কেন মানুষ আমাকে এতটা ভালোবাসে। তবে আমার ভিন্নধর্মী
উপস্থিতি হয়তো মানুষের নজর কাড়ে। শুধু খেলাধুলা নয়, ব্যক্তিগত জীবনের এই উষ্ণতা এবং মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’ স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছেন, ‘সে একজন দারুণ মনের মানুষ এবং অত্যন্ত মেধাবী ফুটবলার।’
এদিকে, রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখানোর পর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কুকুরেয়া। জাতীয় দলের কাঠামোর সাথে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া থাকলেও ক্লাবে নতুন হওয়ায় এখনো নিজের সেরাটা নিয়মিত ফুটিয়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগছে বলে স্বীকার করেন তিনি। কুকুরেয়া বলেন, ‘মাদ্রিদ আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন একটা ক্লাব। আমাদের সেভাবে কোনো গোছানো প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিও ছিল না। এখন পর্যন্ত ১০টির কম ম্যাচ খেলেছি।’
