এশিয়ান গেমসকে কতোটুকু গুরুত্ব দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা?

এশিয়ান গেমসকে কতোটুকু গুরুত্ব দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা?

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সোনা জয়ের লক্ষ্যেই পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে জাপানে এসেছিল বাংলাদেশ। দেশ ছাড়ার আগে অবশ্য সোনার প্রতিশ্রুতি দেননি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তবে অন্তত ফাইনাল খেলার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ছয় উইকেটে হারের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬২ রানের পরাজিত হয়ে পদকশূন্য বাংলাদেশ। ফলে ক্রিকেট ঘিরে এখন উঠছে নানা প্রশ্ন— এশিয়ান গেমসকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ দল?

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ২২ ডিসিপ্লিনে ১৮৭ ক্রীড়াবিদকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৭৩ কর্মকর্তা। এতগুলো ডিসিপ্লিনে দল পাঠালেও বিওএর বড় প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেটকে ঘিরেই। কিন্তু নারী ক্রিকেট দল শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে পদক ছাড়াই দেশে ফেরে। পুরুষ ক্রিকেটে ছিল শেষ ভরসা। পূর্ণ শক্তির দল না পাঠানোয় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে খুব শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল না। কিন্তু এই দুই দলের কাছেই হেরে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ক্রিকেটারদের নিবেদন। ম্যাচের আগের দিন রাতেও নাগোয়ার সাকাই এলাকায় বাংলাদেশ দলের কয়েকজন ক্রিকেটারকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ নাগোয়া ছেড়ে অন্য শহরেও গিয়েছিলেন বলে খবর এসেছে। বাইরে ঘোরাঘুরি, শপিং কিংবা বিভিন্ন জায়গায় খাবার খাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— এশিয়ান গেমসকে কি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা? গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে উল্টো বলেন, ‘কী করলে আপনার মনে হবে খেলা গুরুত্ব সহকারে নেয়া হয়েছে?’ এরপর লিটন ব্যাখ্যা দেন, কেন ক্রিকেটারদের বাইরে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। অনুশীলনের প্রয়োজন আছে। এখানে কি সেই সুযোগ-সুবিধা আছে? নাই। তাই একটা প্লেয়ার কি সারাদিন রুমের ভেতর বন্দি হয়ে বসে থাকবে? এখানে খাবার-দাবার যখন একটা খেলোয়াড়ের কাভার হচ্ছে না, তখন তাকে তো রুম থেকে বের হতেই হবে। কারণ খেতে গেলে তো বাইরে যেতে হবে।’ সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির প্রসঙ্গ টেনে অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এশিয়ান গেমস থেকে যে খাবারটা আমাদের দেয়া হচ্ছে, সেটা যখন উপযোগী হচ্ছে না, তখন তো খেতে গেলে বাইরে যেতে হবেই। তাই করেছেন খেলোয়াড়রা। এখন যদি বলেন, ক্রিকেট খেলবো রোদের মধ্যে খেলা। কিন্তু সারাদিন এসি রুমে ঘুমাবো, তখন সেটা তো আপনি গ্রহণ করবেন না। আমাদের কাছে যদি অনুশীলন করার জন্য অপশন থাকতো, তাহলে তো বাইরে যেতে হতো না।’ লিটনের এই বক্তব্যের পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে। গেমসে খাবারের ব্যবস্থা করা আয়োজকদের দায়িত্ব। কোনো সমস্যা হলে দলের ম্যানেজার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিওএকে জানানোই নিয়ম। তাহলে খাবার কিংবা অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সমস্যাগুলো কি বিওএকে জানানো হয়েছিল? জানানো না হয়ে থাকলে গেমস শেষ হওয়ার পর কেন এসব অভিযোগ? এই প্রশ্নের অবশ্য স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, জাপানে অনুশীলন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি ছিল। কিন্তু একই পরিবেশে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা কীভাবে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো ফল করলো— এই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য অধিনায়কের সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘তারা আমাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানাও ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘একমাত্র ক্রিকেটেই আমাদের আশা ছিল। তারা সেভাবে পারফরম্যান্স করতে পারেনি। সবচেয়ে দুঃখজনক, তাদের খেলায় বা আচরণে গেমসে গুরুত্বের অভাব মনে হয়েছে।’ এশিয়ান গেমস বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নয়। এখানে একটি পদকও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা বাড়ায়। অথচ অন্য ডিসিপ্লিনের অনেক ক্রীড়াবিদ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে লড়াই করলেও ক্রিকেটারদের ঘিরে ছিল তুলনামূলক বড় প্রত্যাশা। শেষ পর্যন্ত মাঠে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং সেমিফাইনালের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচেও হেরে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর তাই পদক হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে— ব্যর্থতার দায়টা কোথায়, প্রস্তুতিতে, ব্যবস্থাপনায়, নাকি মানসিকতায়?

এর আগে ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়াডে সোনা জেতে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ইনচনে ও ২০২৩ সালে হাংঝুতে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার গেমসে বাংলাদেশ দলের একমাত্র প্রাপ্তি উশুতে জিন্নাত আক্তারের ব্রোঞ্জ।