ড্র দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লীগের এবারের আসর শুরু করা আবাহনী লিমিটেড নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পেলো জয়ের দেখা। গতকাল চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে ৫-১ গোলে হারায় আকাশি-নীলরা। আবাহনীর হয়ে জোড়া গোল করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি ওকাচি। একটি করে গোল করেন আল আমিন, পাকিস্তানের মিডফিল্ডার মঈন আহমেদ ও নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা মিডফিল্ডার মাইকেল বাবাতুন্দে। আবাহনীর জয়ের দিনে পয়েন্ট হারায় ফর্টিস এফসি। লীগের নবাগত দল সিটি ক্লাবের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে। রহমতগঞ্জ ফ্রেন্ডস মুসলিম সোসাইটি ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ম্যাচও ড্র হয়। লীগে দুই ম্যাচে শতভাগ জয়ে শীর্ষে বাংলাদেশ পুলিশ। আবাহনী ও ফর্টিসের সমান চার পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দুইয়ে ফর্টিস আর তিনে আবাহনী।
তিন বিদেশি অ্যান্থনি ওকাচি, মাইকেল বাবাতুন্দে ও ম্যাথিই চিনেদুকে নিয়ে আক্রমণভাগে রেখে শুরুর একাদশ সাজান আবাহনীর কোচ মারুফুল হক। রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণের উপর চাপ বাড়ায় আকাশি-নীলরা। চতুর্থ মিনিটে মাথায় নাইজেরিয়ান উইঙ্গার বাবাতুন্দের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়া করে বক্সের কাছে বল বাড়ান পাকিস্তানি মিডফিল্ডার মঈন। সেখান থেকে দারুণ এক প্লেসিং শটে ওয়ান্ডারার্সের জাল খুঁজে নেন ওকাচি। দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে আবাহনী। এবার গোলের নায়ক প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট করা মঈন। ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থ ইফতিয়ার হোসেনের নিখুঁত ফ্রি-কিকে লাফিয়ে ওঠা দুর্দান্ত এক হেডে জাল কাঁপান এই পাকিস্তানি তারকা।২-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মতিঝিল পাড়ার ক্লাব ওয়ান্ডারার্স। ১৪ মিনিটে নেপালি মিডফিল্ডার যুবরাজ ধাকাল ও অস্ট্রেলিয়ান জন বেইলির গড়া আক্রমণে আবাহনীর বক্সে ভীতি ছড়ায় তারা। বেইলির ক্রসে আবাহনীর ডিফেন্ডার সিরাজুল ইসলাম সাকিব বল ক্লিয়ার করতে ভুল করলে বক্সের সামনে বল পেয়ে যান জাহিদ। ডান পায়ের দৃষ্টিনন্দন এক ভলিতে টপ কর্নার দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। আবাহনীর গোলরক্ষক প্রীতম কুমার ঝাঁপিয়ে পড়ে বলের নাগাল পাননি। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। এক গোল শোধের পর ৩৩ মিনিটে নিজেদের ভুলে আবারো পিছিয়ে পড়ে তারা। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকার সময় বাবাতুন্দেকে ফাউল করে বসেন ডিফেন্ডার তানভীরুল ইসলাম। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে নিজের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন ২০১৪ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানো বাবাতুন্দে। গোলরক্ষক মহিউদ্দিন বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও গতির কাছে পরাস্ত হন। ৩-১ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আবাহনী। বিরতির পর গোলরক্ষক মহিউদ্দিনকে জায়গায় জসিম উদ্দিনকে মাঠে নামায় ওয়ান্ডারার্স। মোট তিনটি বদল আনে ক্লাবটি। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি। ৫৮ মিনিটে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন বদলি মিডফিল্ডার শাহেদ। এরপর আইদিল ওসমান দিয়ারার একটি দূরপাল্লার হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে প্রথম রাউন্ডে খেলতে পারেননি শেখ মোরসালিন। দ্বিতীয় রাউন্ডে আবাহনীর হয়ে মাঠে নামেন এই মিডফিল্ডার। ৬১ মিনিটের সময় চিনেদুর বদলি নামেন তিনি। নাজমুল হুদা ফয়সালের জায়গায় বদলি নামা আল আমীন ৭১ মিনিটে একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এর পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান বাপড়ান ওকাচি। সতীর্থ আফোলাবির উঁচু করে বাড়ানো বল দারুণ দক্ষতায় বুকে নামিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। ৭৮ মিনিটে মোরসালিনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২) ওয়ান্ডারার্সের জালে শেষ গোলটি করেন আল আমীন। ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শক্তিশালী ফর্টিস এফসিকে হারানোর সম্ভাবণা জাগিয়েও ৩-৩ গোলে ড্র করে সিটি ক্লাব। ম্যাচের ১৯ মিনিটের মধ্যে সিটির হয়ে জোড়া গোল করেন ওকাফর।
বিরতির আগে পা ওমর বাবুর অ্যাসিস্ট থেকে ফর্টিসের হয়ে এক গোল শোধ দেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বিরতির পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ক্লাবটিকে সমতায় ফেরান গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার এসা জালো। পাঁচ মিনিট পর নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওকাফর। আবারো লিড নেয় সিটি ক্লাব। ৬৯ মিনিটে জাপানি ফরোয়ার্ড নুরুকি আকাদার গোলে সমতায় ফেরে ফর্টিস। দিনের আরেক ম্যাচে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে নাইজার মিডফিল্ডার রাইয়েস সুরাজ পেনাল্টি থেকে গোল করে আরামবাগকে এগিয়ে নেন। ২৫ মিনিটে সেনে ইব্রাহিমার গোলে সমতা ফেরায় রহমতগঞ্জ। বিরতির পর সেনেগাল ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোলে লিড নেয় ক্লাবটি। ৬৮ মিনিটে মোহাম্মদ রকির গোল সমতা ফেরান। ২-২ গোলে ম্যাচ শেষ হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পয়েন্টের খাতা খুলে রহমতগঞ্জ।
