ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, দিল্লির ইশারায় যারা কাজ করছে তারা শয়তানের দোসর। যাদের হেডকোয়ার্টার দিল্লি, তারা দিল্লিতেই চলে যাক, ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই, তাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। শনিবার দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে গোপনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দেশের ভেতর থেকে ক্ষতি করেছে। ১৯৯৬ সালের ষড়যন্ত্রের মতো তারা আগামী ডিসেম্বরেও একই ধরনের চক্রান্তের পরিকল্পনা করছে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, দিল্লির ইশারায় যারা কাজ করছে তারা শয়তানের দোসর।’ যাদের হেডকোয়ার্টার দিল্লি, তাদের দিল্লিতেই চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া মওদূদীকে ব্রিটিশদের তৈরি এবং ভারতের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের বিভক্ত করার জন্যই তাকে তৈরি করা হয়েছিল এবং বাংলার মাটিতে তার কোনো স্থান হবে না। আগামী স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। আলেম-ওলামাদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসে আছে, তাদের সরিয়ে আগামীতে ঈদগাহ, বড় মসজিদ এবং ধর্মীয় অনুদানের দায়িত্ব আলেম-ওলামাদের হাতে তুলে দেয়া হবে। জাতীয়তাবাদী ওলামাদল রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ নুরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তাজউদ্দীন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ পবা- মোহনপুরের এমপি এড. শফিকুল হক মিলন, পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের এমপি অধ্যাপক নজরল ইসলাম, বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
