কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে জেলার ১৮টি থানায় আটক ৩৭০ জনের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপর ৯১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত দুই কিশোর গ্যাং ‘টিম জঅড’ ও ‘ঈৎরসব ঝবঃঁঢ়’-এর নেতৃত্বস্থানীয় চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও ডিবি’র সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে।
গত ১০ দিনে পাঁচ দফায় মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে কুমিল্লার আলোচিত দুই কিশোর গ্যাং ‘টিম জঅড’ ও ‘ঈৎরসব ঝবঃঁঢ়’-এর নেতৃত্বস্থানীয় চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো— ‘জঅড’ গ্যাংয়ের ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘ঈৎরসব ঝবঃঁঢ়’ গ্যাংয়ের মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বির (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকার (২৪)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান হোসেন ওরফে রতনের বাবার নাম মৃত আবুল কাশেম। তার নেতৃত্বে নগরে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। ২০২২ সালের ১৯শে আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে শাহাদাত হোসেন নামের এক কিশোরকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় রতনের নাম আসে। ওই মামলায় র্যাব ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখন র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মামলার প্রধান আসামি রতন ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান এবং হত্যাকাণ্ডের হোতা। ২০২৪ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা নগরের সার্কিট হাউজ মোড় এলাকায় রতন ও ইগল গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
