কালভার্ট হলেও ভোগান্তি গেল না

কালভার্ট হলেও ভোগান্তি গেল না

ফন্ট সাইজ:

গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ৯টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তিন অর্থবছর শেষে সেই প্রকল্পের ৮টি কালভার্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি রাজারহাট ইউনিয়নের নাটুয়া মহল পরেশের বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট। কালভার্ট দিয়ে চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক না থাকায় পাঁচ গ্রামের চার হাজার মানুষের গলার কাঁটা হয়ে আছে এটি। প্রকল্পটির নথি অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাটুয়া মহলের এই কালভার্টটি নির্মাণের জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮২ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই এই কালভার্টের বরাদ্দের ২৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থ প্রদান করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য পুরনো কালভার্টটি ও সড়ক ভেঙে ফেলে ঠিকাদার। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ রাখার পর চার মাস আগে ঠিকাদার কালভার্টটির কাজ শেষ করেন। কাজ শেষে পুনরায় সড়কটি নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা করেননি। পরবর্তীতে সড়ক থেকে কালভার্টে ওঠার জন্য বাঁশ দিয়ে একটি উঁচু মাচা তৈরি করে দেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা পরেশ বর্মণ বলেছেন, ‘আগোততো আস্তা আচিল, ব্রিজ কোণা ভাঙা আছিল তাও হাঁটা গেইছে। এলা ব্রিজ আছে তা আস্তা নাই। হাঁটি কুদি এলা। চৌদ্দ মুল্লুক ঘুরি যাওয়া নাগে। লাভ কি হইল তা। জনগণের টাকার বারোটা বাজাইছে।’ অটোচালক গোবিন্দ চন্দ্র বলেছেন, ‘এক-দেড় হাত উঁচা হইলে তাও যাওয়া গেইল হয়। ৬ ফিট উঁচা ক্যামনে কি করি। ওই জন্যে ৩ কিলো ঘুরি যাই সিংগারডাবড়ী।’

স্থানীয়দের তথ্য মতে, এই রাস্তা দিয়ে শামকালিয়া, রামপাড়া, নয়াবাড়ি, পোদ্দারপাড়া ও চেতনা গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এ ছাড়াও সিংগার ডাবরীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিংগার ডাবরীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিংগার ডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু নিকেতন স্কুল, এডুকেয়ার প্রি-ক্যাডেট স্কুল এবং সিংগার ডাবরীহাট দাখিল মাদ্রাসার প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর যাতায়াত এই রাস্তা দিয়ে। প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, পানি থাকার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। তবে খুব শিগগিরই কাজটি শুরু করা হবে। অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হয়নি।