গ্রামবাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, নৌকা বাইচ হলো আবহমান গ্রামবাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, যা আধুনিকতার ছোঁয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিগত দিনে হারিয়ে যেতে বসেছিল। সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া আনন্দ ও বিনোদনের খোরাক ফিরিয়ে দিতে বর্তমান সরকার এই নৌকা বাইচকে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে।
শনিবার মানিকগঞ্জের বেউথা কালীগঙ্গা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং যুবসমাজকে মাদক ও অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের উৎসবের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া হবে। নৌকা বাইচ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট জহির আলম লদীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাসুদ পারভেজের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। এদিকে শরতের সোনাঝরা রোদ আর কালীগঙ্গা নদীর স্নিগ্ধ গরম হাওয়া—সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বেউথা ঘাট এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়েই ছিল উৎসবের জোয়ার। শান্ত কালীগঙ্গার বুকে ঢেউয়ের দোলা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করতে ছুটে এসেছে লাখো মানুষ। কালীগঙ্গার বুকে এই নৌকা বাইচে কুড়িগ্রামের রৌমারী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার চার ক্যাটাগরির ২২টি সুসজ্জিত নৌকা অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে— খেল্লা-গয়ইটা নৌকা ১০টি, ঘাসি-ছিপা নৌকা ৫টি, ছান্দি নৌকা ৪টি ও পানসি নৌকা ৩টি। এরমধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে সুদূর নৌপথ পাড়ি দিয়ে আসা ‘মায়ের দোয়া’ নামের বিশাল আকৃতির নৌকাটি দর্শনার্থীদের মাঝে অন্যরকম এক উন্মাদনা ও উদ্দীপনা তৈরি করে। নৌকা বাইচ উপলক্ষে কালীগঙ্গার দু’পাড়ে বসেছিল গ্রামীণ মেলা।
