বন্দরে পড়ে থাকা ১৫১ টন রাসায়নিক সরানো শুরু

বন্দরে পড়ে থাকা ১৫১ টন রাসায়নিক সরানো শুরু

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় ১৫১ টন বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস হাউজ চট্টগ্রাম। ২০০৩ সাল থেকে বন্দরে পড়ে থাকা ৯টি কন্টেইনারে এসব রাসায়নিক রয়েছে। এর মধ্যে সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, মিথানল ও থিনারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ রয়েছে।

শনিবার সকালে ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রাসায়নিকবাহী যানগুলো পুলিশি নিরাপত্তায় রূপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ৯টি কন্টেইনারে মোট ১৫০ দশমিক ৮৯ টন রাসায়নিক রয়েছে। এরমধ্যে এক কন্টেইনারে ২৫ দশমিক ৫৫ টন সালফিউরিক এসিড, এক কন্টেইনারে ৫০০ কেজি নাইট্রিক এসিড, পাঁচ কন্টেইনারে ৯২ দশমিক ৫৪ টন মিথানল এবং দুই কন্টেইনারে ৩২ দশমিক ৩০ টন থিনার রয়েছে। এজন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় অবস্থিত ওয়াটার কেমিক্যালস লিমিটেডকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পরিবেশসম্মত ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইঘঅঈডঈ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়ন। কাস্টমস হাউজ চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কন্টেইনার জট কমানোর অংশ হিসেবে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক সরিয়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা যায়, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে নামানোর পর সাধারণত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানিকারককে তা খালাস করতে হয়। কিন্তু বাজারমূল্য কমে যাওয়া, লোকসানের আশঙ্কা, ভুল বা মিথ্যা ঘোষণা, রাজস্বসংক্রান্ত জটিলতা, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়া কিংবা মামলা থাকাসহ নানা কারণে অনেক পণ্য খালাস করা হয় না।

ফলে কিছু চালান বছরের পর বছর এমনকি যুগের পর যুগ বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকে। আমদানিকারক পণ্য খালাস না করলে তাকে নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরিয়ে না নিলে তা নিলামে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে নিলামে বিক্রি না হওয়া কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী পণ্যের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়া হয়। রাসায়নিক বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ধ্বংসের পর খালি কন্টেইনার শিপিং এজেন্টকে ফেরত দেয়া হয়।