পিচঢালাই উঠে সড়কের ইট-সুরকি বেরিয়ে গেছে। বিভিন্নস্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টিতে সেই গর্তে পানি-কাদা জমে। চাকা গর্তে পড়ে হেলেদুলে চলে যানবাহন। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। সিলেটের বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়ক এখন বেহাল। গর্তে পড়ে গাড়িগুলো উল্টে যাওয়ার দৃশ্য হরহামেশা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বালাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তাজপুর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি বিগত ২০২২ ও ২৪ সালের বন্যায় আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ সময়ে কয়েক দফা বন্যায় ভেসে উঠে সড়কের ক্ষতচিহ্ন। এরপর ২০২২ সালের শেষের দিকে সড়কটি নামমাত্র সংস্কার করা হয়।
কিন্তু ২০২৪ সালের বন্যার পর সড়কে সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার মানুষ। আড়াই দশক আগে সড়কটি একটানা কয়েক বছর যান চলাচলের অনুপযোগী ছিল। সেই ভোগান্তির কথা মনে হলে এখনো আতকে ওঠেন এ অঞ্চলের মানুষ। বর্তমানে সড়কটি সেই আড়াই দশক আগের দুরবস্থায় পতিত হওয়ায় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরজমিন দেখা যায়, ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশে কোথাও বড় গর্ত আবার কোথাও ছোট, কোথাও সড়কের পিচ উঠে গেছে। পাকা সড়ক কাঁচা সড়কে রূপ নিয়েছে। তার উপর সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে থাকে। কয়েক মাস আগে জরুরি সংস্কারের নামে সড়কের বড় বড় গর্ত হওয়া স্থানগুলোতে ইটের সলিং করায় স্থানীয়রা বলছেন, পাকা সড়কে ইট সলিং এটা তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কলেজছাত্র ফাহাদ আহমদ বলেন, গাড়িতে উঠলে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই সময় চলে যায়। ফলে সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসগুলো করা যায় না। এলাকাবাসী ও যাত্রী সাধারণের কথা বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি যেন অতিদ্রুত সংস্কার করা হয়। বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কের অধিকাংশ অংশ ওসমানীনগর উপজেলার আওতাধীন। সেই অংশটুকু বেশি বেহাল। বালাগঞ্জ অংশ সংস্কারের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কের বড় বড় গর্তগুলোতে ইট ফেলে ভরাট করাসহ কয়েকটি স্থানে ইটসলিং করা হয়েছে। সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।
