একসময় গারো পাহাড় ছিল ঘন অরণ্যে ঘেরা। শাল-গজারি বনের গভীরে বিচরণ করতো বাঘ, ভল্লুক, হরিণ ও মেছোবাঘ। বনমোরগ, ময়ূরসহ নানা প্রজাতির পাখির ডাকে মুখর থাকতো পাহাড়ি জনপদ। সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে। বনভূমি কমে যাওয়া, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে অতীতে দেখা অনেক প্রাণী-পাখি এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। রোববার বিশ্ব প্রাণী দিবস। প্রাণী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়।
এ দিবসকে সামনে রেখে গারো পাহাড়ের বন্যপ্রাণীর হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে সামনে এসেছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে একসময় বাঘ, ভল্লুক, হরিণ ও মেছোবাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য। বনমোরগ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ছিল প্রচুর। নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল জলিল মানবজমিনকে বলেন, একসময় এ অঞ্চলের পাহাড়ি বনে বাঘ, ভল্লুক, হরিণ ও মেছোবাঘসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখা যেতো। বনমোরগ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ছিল প্রচুর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বনাঞ্চল কমে যাওয়া, গাছপালা নিধন ও মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে এসব প্রাণীর অনেকগুলোই এখন আর দেখা যায় না। তবে বন্যপ্রাণী শূন্য হয়নি গারো পাহাড়। বর্তমানে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির নিয়মিত বিচরণ রয়েছে। খাবারের সন্ধানে হাতির পাল পাহাড় থেকে লোকালয় ও কৃষিজমিতে নেমে আসে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসেন মিয়া বলেন, বর্তমানে পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতির বিচরণ দেখা যায়। খাবারের সন্ধানে হাতির পাল লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এতে কৃষকের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, পাশাপাশি মানুষও আতঙ্কে থাকেন। স্থানীয়দের মতে, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা না গেলে বর্তমানে টিকে থাকা প্রাণীগুলোও ভবিষ্যতে সংকটে পড়তে পারে। গারো পাহাড়ের অবশিষ্ট বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ব প্রাণী দিবসে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে গারো পাহাড়ের বন্যপ্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।
