নজরুল-প্রমীলার স্মৃতি নিয়ে জেগে আছে তেওতা জমিদার বাড়ি

নজরুল-প্রমীলার স্মৃতি নিয়ে জেগে আছে তেওতা জমিদার বাড়ি

ফন্ট সাইজ:

ইতিহাসের পাতায় অনেক স্থানের নাম হারিয়ে যায় সময়ের স্রোতে। আবার কোনো কোনো স্থান মানুষের স্মৃতি, সাহিত্য ও ভালোবাসার গল্পে টিকে থাকে যুগের পর যুগ। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি তেমনই এক ঐতিহাসিক স্থান। জমিদারি আমলের স্থাপত্যের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী প্রমীলা দেবীর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই তেওতা। যমুনার তীরঘেঁষা তেওতা গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন জমিদার বাড়িটি আজও বহন করছে অতীতের নানা স্মৃতি। পুরনো প্রাসাদ, পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট, নাটমন্দির ও নবরত্ন মঠ সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়। স্থানীয় সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ১৭শ’ শতকে তামাক ব্যবসায়ী পঞ্চানন সেন এই জমিদার বাড়ি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে জমিদারি পরিচালনা করেন হেমশংকর রায় চৌধুরী ও জয়শংকর রায় চৌধুরী।

তবে তেওতার পরিচয় শুধু জমিদারি ঐতিহ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কবি নজরুলের স্মৃতির কারণে স্থানটি পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। স্ত্রী প্রমীলা দেবীর পৈতৃক বাড়ি ছিল তেওতায়। সেই সূত্রে নজরুলের সঙ্গে তেওতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করে এই জনপদ। সময়ের ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেয়ালগুলো যেন অতীতের গল্প শোনায়। আর সেই গল্পের সঙ্গে বারবার ফিরে আসে নজরুল ও প্রমীলার নাম। জমিদার বাড়ির অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ৭৫ ফুট উঁচু নবরত্ন মঠ। ১৮৫৮ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি আজও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। বাড়ির বিভিন্ন অংশে রয়েছে পুরনো স্থাপত্যের নানা নিদর্শন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্নে অনেক স্থাপনা এখন জরাজীর্ণ। বর্তমানে জমিদার বাড়ির ৫৫টি কক্ষই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তারপরও নজরুলের স্মৃতি ও প্রাচীন স্থাপত্যের টানে এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। কেউ ইতিহাস দেখতে আসেন, কেউ কবির স্মৃতির খোঁজে ঘুরে দেখেন তেওতার পথ-প্রান্তর। স্থানীয়দের মতে, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তেওতা হতে পারে নজরুল-প্রমীলার স্মৃতিকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র। কালের বিবর্তনে জমিদারি নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুসও। কিন্তু জমিদার বাড়ির পুরনো দেয়াল, নবরত্ন মঠ আর আশপাশের স্মৃতিচিহ্ন আজও সাক্ষ্য দেয় একটি সময়ের। আর সেই ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবীর স্মৃতি। তাই তেওতাকে শুধু স্থাপনা হিসেবে নয়, নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্য হিসেবেও সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের।