কমিটিকে বাদ দিয়ে এমপিদের শোডাউন

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে নতুন মেরূকরণ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্যদের দূরত্বের বিষয়টি এবার প্রকাশ্যে এসেছে। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটিকে ছাড়াই স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে প্রতিবাদ সভা ও গণমিছিল। গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে জামায়াতের কাছে হেরে যাওয়া বিএনপি’র দুই এমপি প্রার্থীও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজারের এ জে চৌধুরী কলেজ মাঠে ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিএনপি’ ব্যানারে এ প্রতিবাদ সভা ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন। দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করবে। চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদেই এ সমাবেশ। কোনো মিছিল, পোস্টার বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিএনপিকে শঙ্কিত করা যাবে না। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ রয়েছেন। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। সংসদ সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মোকাবিলা করা হবে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। কোনো অপশক্তি এই ঐক্যকে দুর্বল করতে পারবে না। সভাপতির বক্তব্যে সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ ও সংসদ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পিত সন্ত্রাস এ অঞ্চলে হতে দেয়া হবে না। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি নেতাকর্মীদের সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। জেলা কমিটিকে বাদ দিয়ে এমন আয়োজনে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে দাবি করছেন তারা। দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দূরত্ব রয়েছে। এ কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সেই টানাপড়েনই প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন দলের তৃণমূলের অনেকে। দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া মানবজমিনকে বলেন, এখানে একটি কমিটি আছে। আরা তারা কমিটিকে বাদ দিয়ে এমন কর্মসূচি করেছে। মূলত তারা সাংগঠনিক পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এমনটা করেছে। আমরা তাদের বিষয়ে কেন্দ্রকে অবহিত করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ইদ্রিসকে ও সদস্য সচিব করা হয় লায়ন হেলাল উদ্দিনকে। পরে ৬ই মে ৫৪ সদস্য নিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। কমিটির প্রধান দুই নেতাই বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের অনুসারী বলে পরিচিত। আর বৃহস্পতিবার পৃথক সমাবেশের আয়োজন করা নেতারা অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদের ঘনিষ্ঠ। মূলত এই সমাবেশের মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।