যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয় বুধবার রাতে। নির্ধারিত নিয়মে দুই দফা মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় তার শরীরে। এরপরও অদ্ভুতভাবে বেঁচে যান ক্রিস্টা পাইক নামের নারী কয়েদি। ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে কারাগারে ছিলেন। কিন্তু প্রাণঘাতী রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের পরও তিনি বেঁচে যাওয়ায় অঙ্গরাজ্যটির বিচার ও কারা ব্যবস্থার অদক্ষতা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বরাতে জানা যায়, বুধবার রাতে পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুটি ডোজ দেয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর বদলে তিনি তখনো শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং জোরে জোরে নাক ডাকছিলেন। কক্ষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জানান, তিনি এর আগে অনেক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু এমন ভয়াবহ ও চরম ব্যর্থ প্রক্রিয়া কখনো দেখেননি।
ঘটনার একপর্যায়ে কার্যকরকক্ষের পর্দা বারবার টানা ও ফেলা হচ্ছিল, যা ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনাকেই স্পষ্ট করে তোলে। পাইকের আইনি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল এক প্রকার দুঃস্বপ্ন। কার্যকরকারী দল পাইকের শিরায় আইভি লাইন স্থাপন করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় এবং তাঁর বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুঁই ফোটায়। বিষাক্ত তরল শরীরে প্রবেশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাইক চিৎকার করে বলেন তাঁর হাত ফেটে যাওয়ার মতো তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে। এর পরপরই তিনি গোঙাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে জোরে নাক ডাকতে থাকেন। বর্তমানে তিনি চরম আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিভারবেন্ড কারাগার থেকে অন্য একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জীবন বাঁচানোর চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি এক ঘোষণায় চলতি বছরের অবশিষ্ট সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের নির্দেশ দেন। কার্যকর প্রক্রিয়ায় ঠিক কী ভুল হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বতন্ত্র তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও প্রাণঘাতী রাসায়নিকের সঠিক মান নিশ্চিত না হওয়ার কারণে তিনি সাময়িকভাবে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছিলেন। পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি গভর্নরকে উদ্দেশ্য করে সাজা কমানোর আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাইক মৃত্যুর ভয় পাচ্ছিলেন না, বরং তাঁর মূল শঙ্কা ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও চরম যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর। বাস্তবে ঠিক সেটাই ঘটেছে। এদিকে এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে অদক্ষ কর্মীদের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ ওষুধ প্রয়োগ করায় এই পদ্ধতিটি দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক চেয়ারে ব্যর্থ হওয়ার পর বেঁচে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও, প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশনের রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের পরও কোনো বন্দীর বেঁচে থাকার ঘটনা দেশটির ইতিহাসে একেবারেই নজিরবিহীন।
