নিজেদের অস্ত্রাগারের ‘সব ধরনের অস্ত্র’ প্রয়োগের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা হলে তা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এ হুমকি দেন তিনি। বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের এক অধিবেশনে পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে তাদের ওপর কোনো আগ্রাসন চালানো হলে কঠোর জবাব দেয়া হবে। এ সময় তিনি ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মস্কোর সঙ্গে যুদ্ধের উসকানি দেয়া, বাল্টিক সাগরে সামরিক মহড়া চালানো এবং রুশ জাহাজ জব্দের অভিযোগ তোলেন।
পুতিনের এই বক্তব্য আসে মূলত মস্কোর বাল্টিক ছিটমহল কালিনিনগ্রাদ নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। ইউরোপে অবস্থিত একাধিক রুশ দূতাবাস সম্প্রতি সতর্ক করে জানিয়েছে, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদকে আকাশ ও নৌপথে অবরুদ্ধ করার ছক কষছে। দূতাবাসগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কালিনিনগ্রাদকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো চেষ্টা করা হলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমস্ত সক্ষমতা ব্যবহার করে জবাব দিতে প্রস্তুত। পুতিনও সেই সতর্কবার্তা সমর্থন করে বলেন, কালিনিনগ্রাদ বা অন্য যেকোনো রুশ ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত এলে অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সমস্ত অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন অবধারিতভাবেই সামনে আসবে।
রাশিয়ার এই পারমাণবিক হুঁশিয়ারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। জোটের মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, শক্তি প্রয়োগের হুমকি কিংবা পারমাণবিক হামলার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ন্যাটো কালিনিনগ্রাদকে নিশানা করছে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ন্যাটো একটি আত্মরক্ষামূলক জোট এবং তাদের কোনো মহড়াই রাশিয়ার জন্য হুমকি নয়। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মস্কোর এই পারমাণবিক হুমকি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অগঠনমূলক। ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমা মনোযোগ ভিন্ন খাতে সরাতেই রাশিয়া এমন ভীতি ছড়াচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
