নিজস্ব বাড়ি নেই, থাকেন ভাড়া বাসায়। সেখানেও তিন বেলার খাবার জোগানো কঠিন। এমন অর্থের অভাবে তিনবার বিয়ে ভেঙে যায় সুচিত্রার। পরে বিষয়টি সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস জানতে পেরে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এতে পাঁচদিনের মধ্যে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। শুক্রবার অসহায় সুচিত্রা রানী দাসের সঙ্গে পলাশ কুমার ভৌমিকের রাজকীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
সুচিত্রা রানী দাস সিরাজগঞ্জ জামতৈল সূত্রধরপাড়ার সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাসের মেয়ে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। সুজন চন্দ্র দাস অন্যের সেলুনে কাজ করেন। অপরদিকে বর পলাশ কুমার ভৌমিক উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের ঝড়ু লাল চন্দ্র ভৌমিক ও মমতা রানী ভৌমিকের ছেলে।
সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস মানবজমিনকে এ বিষয়টি জানিয়ে বলেন, সুচিত্রার বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে পোস্ট দেই। এতে দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থেই আজ বিয়ে সম্পন্ন হলো। নগদ ২১ হাজার টাকাও সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই কৃতিত্ব আমার নয়, দেশ-বিদেশ থেকে যারা সহযোগিতা করেছেন, এটা তাদের কৃতিত্ব। আমি শুধু চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ফেসবুকের টাকায় এমন কয়টি বিয়ে সম্পন্ন করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে মামুন বিশ্বাস বলেন, সুচিত্রার বিয়ের মতো ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এখন পর্যন্ত অন্তত দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এসব বিয়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকেই সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন।
সুচিত্রার মা কামনা রানী দাস বলেন, আমি একসময় চালকলে কাজ করতাম। অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারি না। সুচিত্রার বাবা সেলুনে কাজ করে। তারও আগের মতো কাজ নেই। তিনি যে টাকা আয় করেন, তা দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমাদের খুব কষ্টে চলতে হয়। টাকার অভাবে সুচিত্রার তিনবার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। এবার মামুন বিশ্বাস আমাদের পাশে না দাঁড়ালে এ বিয়েও হয়তো ভেঙে যেত।
তিনি আরও বলেন, এবার হঠাৎ বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু মামুন বিশ্বাস এসে পাশে দাঁড়ায়। স্বপ্নেও ভাবিনি আমার মতো অসহায় মেয়ের এতো বড় আয়োজন করে বিয়ে হবে। মামুন বিশ্বাসের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।
