২০২৬ বিশ্বকাপের পর নতুন যুগের সূচনাটা দুর্দান্ত হলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় আলবিসেলেস্তেরা। দলের হয়ে গোল উৎসবে মাতেন লাউতারো মার্টিনেজ, নিকোলাস পাজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের হতাশা পেছনে ফেলে মাঠে নেমে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৯ মিনিটে আলেকজান্ডার ম্যাক অ্যালিস্টারের বাড়ানো দারুণ এক পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক ভিজকার্মাকে একা পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙেন লাউতারো মার্টিনেজ। এর ঠিক দশ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকোলাস পাজ। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিট পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে এক্সেকিয়েল পালাসিওসের চমৎকার থ্রু বল ধরে অত্যন্ত নান্দনিক ও নিখুঁত এক চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে ২-০ করেন কোমোতে খেলা এই উদীয়মান তারকা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ডি বক্সের ভেতর দারুণ হেডে বল জালে পাঠান। নিজের হোম প্রভিন্সে পাওয়া এই গোলটি আবেগঘনভাবে উদযাপন করেন ‘কুটি’ রোমেরো। খেলার একদম অন্তিম মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে দলের চতুর্থ গোলটি করেন হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। লিওনেল ফ্লোরেসের দুর্দান্ত এক প্রচেষ্টার পর ডি বক্সের ভেতরে জটলার সুযোগে রোমারিও স্টাইলে টোকা দিয়ে বল জালে পাঠান ‘ফ্লাকো’ লোপেজ। এটি জাতীয় দলের হয়ে তার প্রথম গোল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপের ফাইনালের পরের মানসিকতা এবং লিওনেল মেসির উত্তরসূরি খোঁজার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম যে আলোচনা করেছি, সেখানে আমি আমার মতামত জানিয়েছি। কাতারে জয়ের পর যেমন বলেছিলাম যে, আমরা জিতেছি এবং আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে; ঠিক তেমনি এবারও বলেছি— ফলাফল যাই হোক না কেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে হবে।’
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর দল কীভাবে মানিয়ে নেবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন ালোনি। তিনি বলেন, ‘লিও এমন একজন খেলোয়াড় যার বিকল্প পাওয়া আসলে সম্ভব নয়। সে অনন্য। তবে এই দলটির একটি নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। মাঠে যেই নামুক না কেন, আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রাখা। এতে নতুনরাও বুঝতে পারবে আমরা কীভাবে খেলি।’ দলের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিবেদন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কোচ বলেন, ‘আমি সবার পারফরম্যান্সেই খুশি। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে দলে আছে, তাদের মানসিকতা অসাধারণ। তারা চাইলে একটু ঢিলেমি করতে পারতো, কিন্তু তারও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। তরুণদের জন্য এটি সেরা উদাহরণ। যতদিন সিনিয়ররা এই মনোভাব ধরে রাখবে, ততোদিন অন্যদেরও লড়াইয়ে টিকে থাকতে হবে।’ নতুন খেলোয়াড়ের অভিষেক হওয়া প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে কাউকে অভিষেক করানোর অনুভূতিটাই আলাদা। এই জার্সি গায়ে জড়ানোর অর্থ এবং এর পেছনের পরিশ্রম খেলোয়াড়দের চোখেমুখেই দেখা যায়। তারা সৌভাগ্যবান। সঠিক সময়ে তাদের সুযোগ দেওয়াটা জরুরি ছিল এবং আমাদের জন্যও এটি একটি সম্মান।’
