গত দুই বছরে অনেক ভারতীয়র মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সত্ত্বেও রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সম্প্রতি আরও বেশি সংখ্যক ভারতীয়র রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন নির্দেশিকাটি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, কেউ কেউ স্বেচ্ছায় এবং অন্যরা বিভ্রান্ত হয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার প্রতিবেদনের উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় সেই সব উপায়ের কথা তুলে ধরেছে, যার মাধ্যমে ভারতীয়দের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ লড়াই করার জন্য প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লড়াই না করার কাজের প্রলোভনে পা দেয়া ছাড়াও, যেখানে ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেয়ার সুযোগ খুঁজছেন। এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য হলো—এর ফলে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধাগুলো ভোগ করা এবং পরবর্তীতে ভারত সরকারের দ্বারস্থ হয়ে সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা করা। মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, এটি একটি বিপজ্জনক পথ এবং সরকার এর ঘোর বিরোধী।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে রাশিয়ার পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন এবং এরপর রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “সাময়িক আর্থিক সুবিধার প্রলোভনে পড়ে কেউ কেউ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই ইতিমধ্যে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যেন তারা এ ধরনের কাজের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনা করেন এবং এর ফলে তারা যে প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে পড়ছেন, তা অনুধাবন করেন। সরকার ভারতীয় নাগরিকদের এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।”
ভারত রাশিয়ার কাছে বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করেছে। তবে প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, তাতে কোনো ভাটা পড়েছে বলে মনে হয় না।
আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ পাওয়া সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ছিল ২২৭। কিরগিজস্তানের বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফ করার সময় পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এই তথ্য জানিয়েছেন।
