এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

চুক্তি অক্টোবরে

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

ফন্ট সাইজ:

উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী অক্টোবরে হতে পারে বলে জানান মন্ত্রী। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সমপ্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা গত ৩০শে এপ্রিল ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলাম। পরে গত ২৩শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন স্বাক্ষরিত ১১টি এয়ারক্রাফটের মধ্যে ৫টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮। ৩০শে এপ্রিল স্বাক্ষরিত ক্রয়চুক্তি অনুযায়ী একই দরে সম্পূরক চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজ ডেলিভারি করা হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ ডেলিভারি হবে। তবে আমরা ২০২৭-২৮ এর মধ্যে অন্তত একটি বিমান ডেলিভারির জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা বিমানের বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস মডেল অনুসরণ করছি। একটি ছোট লিগ্যাসি ক্যারিয়ার থেকে এখন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বহরে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। যেখানে আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ারে রয়েছে মাত্র ১৯টি। আপনারা জানেন ইথিওপিয়ানের তুলনায় আমাদের জিডিপি বেশি এবং আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদাও বেশি। বর্তমানে আমাদের মোট চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশের কিছু বেশি বিমান পরিবহন করতে পারছে। বাকি ৮০ শতাংশই বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে। তাই উড়োজাহাজ স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।

ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ করা হবে। ডেলিভারি ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, র?ুট-আয় ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই সরাসরি বাজেটের উপর চাপ পরিলক্ষিত হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি প্রায় গ্রাউন্ডেড হওয়ার অবস্থায় রয়েছে। ফলে কার্যকরভাবে প্রায় ১৭টি উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান বহরের বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ পুরোনো হয়ে যাবে। তাই বহর বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যে আরও ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। নিউ ইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিডনি রুট চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানে একটি ফ্লাইট চালু রয়েছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এয়ারবাস কেনার বিষয়ে কোনো চাপ বা শর্ত রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো চাপে কিছু করছি না। আমাদের নিডসের কারণে করছি। আমাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য করছি। কোন দেশ থেকে কতোটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের প্রয়োজন ও অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। কোন এয়ারক্রাফটটা কীভাবে আমাদের জন্য স্যুইটেবল, সেটা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা করছি। বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে, কোথা থেকে কিনলে লাভবান হবে, কার কাছ থেকে কতোটুকু কিনলে লাভবান হবে, সেসব আমাদের চিন্তা করা উচিত’- বলেন বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অ্যাভিয়েশন খাত শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বহরে উড়োজাহাজ বাড়লে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে, নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা যাবে এবং যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।