সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি মায়ের

ফন্ট সাইজ:

ধর্ষণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শারমিন আক্তার রিপা।
মঙ্গলবার ভোলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান। শারমিন আক্তার রিপা অভিযোগ করেন, তার চাচাতো ভাই মো. সিরাজ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সিরাজ তার বন্ধু জনতা বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দপ্তরি) জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে সেখানে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে সিরাজ ও জুলফিকার আলী তাকে ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শারমিনের দাবি, ওই ঘটনার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরবর্তীতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তিনি জুলফিকার আলী ওরফে মিজানুর রহমানকে শিশুটির বাবা দাবি করলেও তিনি পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না এবং ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন শারমিন।
তিনি বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে অন্যায় করতে চাই না। আমি শুধু সত্য জানতে চাই। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা হোক। পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রমাণিত হলে আমার সন্তানের আইনগত অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

শারমিন আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকে তাকে মামলা তুলে নিতে এবং মুখ বন্ধ রাখতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তার ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিকালে লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় সিরাজ ও জুলফিকার আলীর ইন্ধনে মামুন হাওলাদার, বাসার হাওলাদার, ওসমান গনি, সোহাগ, জিহাদ, মেহেদী হাসান, সাজু, সিয়াম, আকাশ, মিজান ও রুহুল আমিন কাজীসহ কয়েকজন বাড়িতে এসে তাকে মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার সময় তার অসুস্থ ও বয়স্ক মাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শারমিন। সংবাদ সম্মেলনে শারমিন বলেন, ঘটনার পর ভোলার পুলিশ সুপার ও লালমোহন থানা পুলিশ তাকে আইনগত সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে মামলা ও বিভিন্ন প্রমাণ থাকার পরও তিনি এখনো কাক্সিক্ষত বিচার পাননি বলে দাবি করেন। ফলে তিনি ও তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।