মৌলভীবাজার হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

বিভিন্ন দাবিতে মৌলভীবাজার হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন বাস্তবায়ন, স্বল্পমূল্যে রেশন চালুর দাবিতে জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। সোমবার রাতে নেতাকর্মীরা সংগঠনের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে চৌমুহনা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তারেশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো. সোহেল মিয়া, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মিয়া, প্রচার সম্পাদক রুহুল আমি রোহিত, হোটেল শ্রমিকনেতা খোকন মিয়া প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতই হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা এক দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। তার উপর একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি করে পে স্কেল কার্যকর, অন্যদিকে জ্বালানিতেলের মূল্য বৃদ্ধি, গাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যের বাজারে আরেক দফা মূল্য বৃদ্ধিতে শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। হোটেল মালিকরাও প্রতিনিয়ত তাদের খাদ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা বৃদ্ধি করলেও শ্রমিকদেরকে নামেমাত্র মজুরি প্রদান করছেন। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম আইনের ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শ্রমমন্ত্রী ৩০শে জুন ২০২৬ এর মধ্যে হোটেল সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের ডেডলাইন ঘোষণা দেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও হোটেল সেক্টরের শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইনের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

শ্রমিকরা ঐক্যবব্ধভাবে সরকার ঘোষিত মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবি জানালে মালিকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল এলাকার হিরাঝিল রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে পুলিশ প্রশাসন ও মালিক সমিতির মধ্যস্থতায় নিম্ন্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়নে হিরাঝিল রেস্টুরেন্টের মালিক একাধিক চুক্তি করতে বাধ্য হন। কিন্তু চুক্তি করলে মালিক তা বাস্তবায়ন না করায় শ্রমিকরা প্রতিবাদ করতে গেলে মালিক বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ২০শে সেপ্টেম্বর রাতে শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে চাইলেও অদ্যাবধি শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেয়া হয়নি। নেতৃবৃন্দ হিরাঝিল রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়ন ও সকল শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করার দাবি জানান।