হুমকি-ধামকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, এ দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই রায় কার্যকর করবে। মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সুফলভোগী খামারিদের মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি যৌথভাবে এর আয়োজন করে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দেশে খুন-গুম ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। শিশু-বাচ্চাদের পর্যন্ত রেহাই দেয়নি। জালেম ফ্যাসিস্ট সরকারকে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে বিতাড়িত করেছে। এখন কোনো অনুশোচনা না করে তারা আবার নানা ষড়যন্ত্র ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তবে হুমকি দিয়ে এ দেশের জনগণকে রোধ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যদিয়ে এই দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যতবারই গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, বিএনপি ততবারই গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন করেছে। নেতাকর্মীদের সবসময় ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই এ দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই মানিকগঞ্জ থেকেই প্রথম খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দিন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাজাহান খান।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সুফলভোগী খামারিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ২৫ জন সুফলভোগী খামারির হাতে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য তুলে দেন।
