সীতাকুণ্ডে মাছ ধরতে চাঁদা না দেয়ায় হামলার অভিযোগ, ৮দিন পর যুবকের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুকুরে মাছ ধরতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় মঞ্জুর আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের পাশাপাশি দুই পায়ের গোড়ালির রগ কেটে দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। গুরুতর আহত মঞ্জুর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার ৮ দিন পর সোমবার দুপুরে মারা যান। নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার (৩৪) এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পুকুরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গত ১৯শে সেপ্টেম্বর পুকুরে মাছ ধরার জন্য মেশিন বসাতে গেলে মেহেদী হাসান রানা ও মো. আশিক তাকে বাধা দেন। এ সময় মাছ ধরতে হলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দেয়া হয়। পরদিন ২০শে সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ১১টার দিকে মহিন উদ্দিন মোবাইল ফোনে মঞ্জুরকে গোলাবাড়িয়া সংলগ্ন মুজাফ্ফরের বাড়ির সামনে যেতে বলেন। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন বাদী। এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ছুরি, চায়নিজ কুড়াল, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মঞ্জুরকে মারধর করেন। একপর্যায়ে নিশান ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। পরে কয়েকজন তাকে চেপে ধরলে মেহেদী হাসান রানা ধারালো ছুরি দিয়ে তার দুই পায়ের গোড়ালির রগ কেটে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া মো. আলমগীর লোহার রড দিয়ে বুকে এবং জাহাঙ্গীর হোসেন রনি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে কোমরে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয়রা মঞ্জুরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। মামলায় মেহেদী হাসান রানা, নিশান, মো. আলমগীর, জাহাঙ্গীর হোসেন রনি, মো. আশিক, মো. সাইমন, মো. আমির হোসেন ও মহিন উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার জানান, ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।