কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও থানার লুটকৃত অস্ত্র দিয়ে অপকর্ম পরিচালনার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি থানার লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। এ সময় তারা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মাহাবুল ইসলাম ডাকু ও মাসুদ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে থানার লুটকৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মাসুদের নাম উঠে আসায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন তারা। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে কয়া ইউনিয়নের মাসুদের ঘর সংলগ্ন মোবারকের বাড়িতে মাটির গর্ত থেকে থানার লুটকৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করে এসআরবি-১২। তাদের দাবি, উদ্ধার করা অস্ত্রটি এর আগে মাসুদের কাছে ছিল এবং ওই অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে অস্ত্র উদ্ধারের পর মাসুদকে গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রকৃত মালিক বা ব্যবহারকারীকে শনাক্ত না করে শুধু অস্ত্র উদ্ধার দেখানো হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে না। মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। এদিকে, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে কুষ্টিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআরবি-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. রেজাউল হক বলেন, রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ লুট হওয়া অস্ত্র স্বেচ্ছায় জমা দিলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান নেই। তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, থানার লুটের একটি অস্ত্র ‘শুভ-১৫’ নামে এক ব্যক্তি নিয়ে গিয়েছিলেন।
পরে সেটি স্বেচ্ছায় জমা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা না হলেও তদন্তের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে এসআরবি-১২ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি ভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬শে সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে কয়া ইউনিয়নের আমলসাদ গ্রামের জয়না মোবারক আলীর বাড়ির দক্ষিণ ভিটার উত্তর পাশে দোচালা টিনের ঘরের মাটির গর্তে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থানার লুটকৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ফলে অস্ত্রটি কেউ স্বেচ্ছায় জমা দিয়েছেন, নাকি অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
