কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গোয়ালঘরের পাশে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাত-পা বাঁধা রুকন উদ্দিন (২৪) নামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুকন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকার বাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান। থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে গাছে তার মরদেহ ঝুলতে দেখেন তাঁর ভাই রুবেল মিয়া। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের ভাই রুবেল বলেন, গত ২১শে আগস্ট সে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসেছে। রাত ১০টায় খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিল। ভোরে আমি শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দেখি গোয়ালঘরের পাশে হাত-পা বাঁধা তার মরদেহ ঝুলছে। আমি ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। নিহতের বাবা সাত্তার মিয়া বলেন, তিন বছর আগে জমি বিক্রি করে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলাম। সেখানে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করত। সম্প্রতি সে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। দেশ থেকে ফিরে সুপারভাইজার হিসেবেই কোম্পানিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, ক্ষেতে সেচের পানি দেয়ার জন্য আমাকে রাতে জমির পাশেই থাকতে হয়।
ভোরে নাতনি ডেকে পাঠালে এসে দেখি ছেলেকে কে বা কারা মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘুরতে যাওয়ার জন্য কেনাকাটা করার কথা বলে ছেলে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিল, আমি তাকে টাকাও দিয়েছিলাম। ছেলে বলেছিল কক্সবাজার যাবে বন্ধুদের সঙ্গে। ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
