ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি দু’দফা সময় নিয়ে অবশেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু এখনো পড়া শেষ হয়নি বলে জানান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন। তবে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি করছে হাসপাতাল প্রশাসন। তদন্তে কী উঠে এসেছে, সে বিষয়েও কেউ মুখ খুলছেন না। গত সোমবার শেষ কার্যদিবসে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি খুবই গোপনীয়, সে কারণে সিলবদ্ধ খামে স্যারের (হাসপাতাল পরিচালক) কাছে জমা দেয়া হয়েছে। স্যার সেটি গতকাল পড়ার সুযোগ পাননি। স্যার তদন্ত প্রতিবেদনটি দেখছেন। কিন্তু সেটি কতো পাতার তদন্ত প্রতিবেদন জানাননি। স্যার সেটি যাচাই-বাছাই করছেন। তাই প্রতিবেদন প্রকাশে সময় নেয়া হচ্ছে। তবে, তদন্তের সময় বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পররর্তীতে কথা বলা হবে। তবে, প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুধবার আপনারা আসেন- পরে এ বিষয়ে কথা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৫ই সেপ্টেম্বর হাসপাতাল প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীকে রাখায় সমালোচনা হলে সেটি বাতিল করা হয়। পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াাকে নতুন কমিটির প্রধান করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, কারও গাফিলতি ছিল কি না, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ করতে বলা হয় কমিটিকে। প্রথম দফায় পাঁচ কার্যদিবস ও দ্বিতীয় দফায় তিন কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে তদন্তকাজ শেষে আজ প্রতিবেদন দিতে পেরেছে কমিটি।
এদিকে, একই ঘটনায় ১৫ই সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ করছি।
আমরা এই সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবো। ১৪ই সেপ্টেম্বর হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। পরে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। প্রথমে অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে। পরে চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নাকচ করে আসছে।
