আরচারিতে পদকের আশা শেষ, আলো সায়মা সালাউদ্দিনে

আরচারিতে পদকের আশা শেষ, আলো সায়মা সালাউদ্দিনে

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমসে আরচারিতে পদকের আশা নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দলগত ইভেন্টের পর ব্যক্তিগত লড়াইয়েও সেই আশা মিলিয়ে গেল। গতকাল নাগোয়া সিটি সেন্টার থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ওকাজাকি চু সগো পার্কে রিকার্ভের কোনো ইভেন্টেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেননি বাংলাদেশের আরচাররা। ফলে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আরচারি থেকে পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এতসব হতাশার মাঝেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ১৪ বছর বয়সী সায়মা সালাউদ্দিন। প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে ১/১৬ রাউন্ডে ফিলিপাইনের তাগলে নাইনাকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার নিশ্চিত করেন তিনি। তবে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের অনিলের কাছে সরাসরি ৬-০ সেট পয়েন্টে হেরে থেমে যায় তার অভিযান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে প্রি-কোয়ার্টারে ওঠাটাই অবশ্য সায়মাকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নারী রিকার্ভে বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী শিমু আক্তারও শুরুটা করেছিলেন জয় দিয়ে। প্যালেস্টাইনের রাশাকে ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে ১/১৬ রাউন্ডে ওঠেন তিনি। কিন্তু সেখানে চীনের জুয়ের কাছে একই ব্যবধানে ৬-০ হেরে বিদায় নেন। পুরুষ রিকার্ভে আব্দুর রহমান আলিফ প্রথম রাউন্ডে থাইল্যান্ডের তানাকর্নকে ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে পরের ধাপে ওঠেন। কিন্তু পরের রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার লির কাছে ৬-২ সেট পয়েন্টে হেরে যান। রামকৃষ্ণ সাহা প্রথম রাউন্ডে বাই পেলেও পরের রাউন্ডে কাজাখস্তানের ডাউলেটকেডির কাছে ৬-২ সেট পয়েন্টে হেরে বিদায় নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের বড় অংশই এসেছে রিকার্ভ থেকে। অলিম্পিকে সরাসরি অংশ নেয়া দুই বাংলাদেশি আরচারের একজন রোমান সানা বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জও জিতেছেন।

সেই রিকার্ভেই এবার এশিয়ান গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালও নিশ্চিত করতে না পারা তাই হতাশারই। বাংলাদেশ দলের জার্মান হেড কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকও হতাশা লুকাননি। তিনি বলেন, প্রত্যাশা ছিল দলগত ইভেন্টে। সেখানে একটিতে টাইব্রেকারে এবং দুটিতে
মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে হেরেছি। যাই হোক, হার-হারই। ব্যক্তিগত ইভেন্টে আমাদের কোয়ার্টার পর্যন্ত প্রত্যাশা ছিল, সেটাও হয়নি।’ এশিয়ান গেমসে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশের আরচারদের আরও এক ধাপ এগোতে হবে বলেও মনে করেন এই কোচ। তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে ভারত, চীন, কোরিয়া বেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।’ পদকের আশা শেষ হলেও সায়মাকে ঘিরে নতুন আশার গল্প তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে এসে প্রি-কোয়ার্টার পর্যন্ত ওঠা ভবিষ্যতের জন্য তাকে নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

কোচ মার্টিনও তার প্রতিভায় আস্থা রাখছেন। সায়মার দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘সে ট্রায়াল ও জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেই জায়গা পেয়েছে। সে প্রতিভাবান, আজ প্রি-কোয়ার্টারে উঠে তারই প্রমাণ দিয়েছে।’ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের আরচারির পদকের অপেক্ষা এবারো শেষ হলো না। তবে হতাশার এই আসরেই ১৪ বছরের সায়মা যেন দেখিয়ে গেলেন- পদক না এলেও ভবিষ্যতের তীরটি ঠিক দিকেই ছুটতে শুরু করেছে।