ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের ড্রাফ্ট অনুষ্ঠিত হয় নিয়মিতভাবে। এবার ক্রিকেটারদের আগে দলগুলোর ম্যানেজমেন্ট ড্রাফ্ট সম্পন্ন হলো। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ডি থ্রি টুর্নামেন্টে এই প্রক্রিয়া দেখা গেল। আয়োজনে ছিলেন ওয়ালটনের আইকন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। ড্রাফট শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি জানান- কোচদের তালিকা আগে থেকে দলগুলোর হাতে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা দেখে কোন পজিশনে কাকে নেয়া হবে তা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখে।
ক্রিকেটে ক্রিকেটার ড্রাফটের ইতিহাস থাকলেও ম্যানেজমেন্ট ড্রাফ্ট দেশের মাঠে প্রথম। পরিকল্পনা গুছিয়ে নেয়ায় দলগুলো লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে। ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজন ঘিরে ক্রিকেটারদের মাঝে সাড়া দেখা গেছে। প্রতিটি দল কোচিং স্টাফ বাছাই করতে মাঠে নামে। হাতে সময় না থাকলেও দলগুলো সময়মতো কাজ শেষ করে। প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়। এতে দলগুলোর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে। এই পদ্ধতির প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, ‘এই প্রথমবার আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটটা এই ফরম্যাটে হচ্ছে। যে ফরম্যাটটা হয়েছে, অবশ্যই এটার জন্য ক্রিকেট বোর্ডকে ক্রেডিট দিতে হবে। তারা যেভাবে ফরম্যাটটাকে সাজিয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে যে টিমটা ভালো করার জন্য।’
কোচ বাছাইয়ের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘কোচদের যে তালিকাটা আগে থেকেই দেয়া হয়েছে এবং কাকে কে নেবে, এটা টিম ম্যানেজমেন্ট সেট করেছে-কোন পজিশনে কোন কোচকে নেয়া হবে, তারা এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেন। প্রতিটি দল নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে করে দল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কোচিং স্টাফ নিশ্চিত হওয়ার ফলে দলের কৌশল নির্ধারণ গতি পায়।
তবে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফ্ট শেষ করে বসে থাকার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে ক্রিকেটারদের নিয়ে মূল ড্রাফ্ট অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দলগুলোকে দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হচ্ছে। সময় কম থাকায় কোচিং সেটআপ চূড়ান্ত করার পরপরই দলগুলো পরবর্তী পদক্ষেপে যাচ্ছে। ড্রাফটে দল পাওয়ার পর থেকেই কাজ শুরু হওয়ার বিষয়টি মিরাজ পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকালই আমরা পরিকল্পনাটা করি। হয়তো বেশি সময় পাইনি, কিন্তু আমাদের কোচিংয়ের যে সেটআপটা আছে, সেটা নিয়ে কথা বলেছি। সামনে আমাদের যে প্লেয়ার ড্রাফ্ট আছে, তখন আরও সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করা যাবে।’ এই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি দল নির্দিষ্ট সময়ে প্রস্তুত হয়ে নিজেদের জন্য মাঠের প্রতিটি লড়াইয়ে সফল হতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
